আজকের দিনেতিলোত্তমা

গোলপার্ককাণ্ডে সিপির কড়া বার্তা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- একদিকে সাউথ সিটি কলেজ, অন্যদিকে গড়িয়াহাট কলকাতার অন্যতম জনবহুল এলাকায় যে সন্ধ্যায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিতে পারে, তা কল্পনাও করেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোডে রবিবার সন্ধ্যায় গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকা জুড়ে। এবার সেই আতঙ্কের মাঝেই সোমবার সকালেও সিপি কড়া বার্তা দেন।

কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার কড়া এই প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন,“কাউকে ছাড়া হবে না। সারারাত ধরে রেড হয়েছে। সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের দখলদারি ও বেআইনি নির্মাণের লড়াই। যার কেন্দ্রে উঠে আসছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু র নাম। বাসিন্দাদের কথায়, “এলাকার শান্তি ওরাই শেষ করে দিয়েছে।”

সোনা পাপ্পু বর্তমানে কসবা, ঢাকুরিয়া ও রামলাল বাজার এই তিনটি এলাকার আতঙ্কের নাম। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ সামলায় সে। রবিবার রাতেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। যদিও এলাকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তাঁর স্ত্রী, ৯০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের হাতে।

অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেআইনি নির্মাণ থেকে শুরু করে ভোটের আগে বিরোধীদের ঘরবন্দি রাখা সবেতেই সোনা পাপ্পু ও তার দলবলের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। মাসখানেক আগেই পুরসভায় ৫০–৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ, প্রতিটি নির্মাণের পিছনেই ছিল সোনা পাপ্পুর হাত। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা বিষয়টি জানলেও, শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চাননতলা বস্তি দীর্ঘদিন ধরেই সোনা পাপ্পুর নজরে ছিল। বস্তি খালি করে সেখানে নির্মাণ তোলার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান বস্তির বর্তমান নিয়ন্ত্রক বাপি নামে এক যুবক। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। রবিবার সন্ধ্যায় সেই উত্তেজনাই ভয়াবহ রূপ নেয়।

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার ছবি। কখনও কসবার বিধায়ক জাভেদ খান, কখনও দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমার, আবার কাউন্সিলর বৈশ্বানর ও চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর মেয়ের অন্নপ্রাশনের ছবিও সামনে আসে।

যদিও দেবাশিস কুমারের স্পষ্ট বক্তব্য,
“যে দোষ করেছে, তাঁকে গ্রেফতার করতেই হবে। আমার পাশে থাকলেই কেউ পার পেয়ে যাবে না।”
রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে ববি হেলা, অর্জুন মল্লিক, শেখ বাচ্চু, মুকেশ পাসোয়ান, রবীন দাস, সুজন হালদার, রাজ হালদার, গোপাল সরকার, অজয় হালদার ও সন্দীপ নস্কর।

জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় গোলপার্ক সংলগ্ন পঞ্চাননতলা এলাকায় দু’টি দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পিকনিককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ দ্রুত দখলযুদ্ধে রূপ নেয়। বোমাবাজির পাশাপাশি গুলিও চলে বলে অভিযোগ। ঘটনায় আহত হন অন্তত দু’জন।

এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বাইকে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। পুলিশের গাড়িতেও হামলার চেষ্টা হয়। ঘটনাস্থলে কাউন্সিলর পৌঁছলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এলাকার মহিলারা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা সকলেই কসবা–ঢাকুরিয়া–কাঁকুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। এখনও তল্লাশি চলছে, আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *