ধূপগুড়ির মাদক কাণ্ডে ৩০ লক্ষ টাকার ব্রাউন সুগার-সহ গ্রেফতার ৫
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সরস্বতী পুজোর ঠিক আগেই যুবসমাজকে টার্গেট করে মাদক ছড়ানোর ছক কষেছিল কারবারিরা, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। পুলিশের তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই পরিকল্পনা। ধূপগুড়ি শহরের একটি বেসরকারি হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মোট পাঁচজনকে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ধূপগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌপথি এলাকার ওই হোটেলে অভিযান চালায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধূপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গেইলসন লেপচা, ধূপগুড়ি থানার আইসি অনিন্দ্য ভট্টাচার্য-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী হোটেলে হানা দেয়। তল্লাশি চালিয়ে হোটেলের পাঁচতলার ২৩ নম্বর ঘর থেকে উদ্ধার হয় নিষিদ্ধ ব্রাউন সুগার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পাঁচজনই পার্শ্ববর্তী জেলা আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ব্লকের বাসিন্দা। মাদক উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সেখানে উপস্থিত হন ধূপগুড়ির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ। তাঁর উপস্থিতিতেই আইনি প্রক্রিয়া মেনে মাদক বাজেয়াপ্ত ও গ্রেফতারির কাজ সম্পন্ন হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের দাবি, এই মাদক কারবার সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতেন না। হোটেলের এক কর্মী জানান, গত ১৫ জানুয়ারি চারজন ওই হোটেলে ঘর ভাড়া নেন। তাঁরা নিজেদের সবজি ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন এবং বৈধ নথি দেখিয়েই হোটেলে উঠেছিলেন। বাকি একজন সেখানে স্থায়ীভাবে ছিলেন না, মাঝে মধ্যে দেখা করতে আসতেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলেও জানান ওই কর্মী।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই সবজির ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন এলাকায় ব্রাউন সুগার সরবরাহ করার পরিকল্পনাই ছিল তাঁদের। পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে একটি বড় মাদক চক্র জড়িত থাকতে পারে। ধৃতদের জেরা করে চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যদের নাম জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতেও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
সরস্বতী পুজোর আগে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে যুবসমাজকে লক্ষ্য করে এ ধরনের মাদক কারবার ক্রমেই বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
