Anandapur-Kolkata : ১৯ ঘণ্টা পরেও নেভেনি আগুন, আনন্দপুরে মিলল ৮ দগ্ধ দেহাংশ….
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রায় ১৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদের দু’টি বিশাল গোডাউনে আগুনের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক জায়গায় এখনও ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে। দমকল কর্মীরা কুলিং প্রসেস চালাচ্ছেন। কুলিং প্রসেস সম্পূর্ণ হওয়ার পর ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু হবে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করার পরই আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে।
রবিবার গভীর রাতে ইএম বাইপাস সংলগ্ন নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় দুটি গোডাউন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত আটটি দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নিখোঁজের সংখ্যাও। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট ২৫ জন নিখোঁজের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহগুলি সম্পূর্ণ ঝলসে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। নিখোঁজদের মধ্যে ১৭ জন একটি ডেকরেটার্স সংস্থার কর্মী এবং তিন জন অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। যেসব পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁদের মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়ে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই দেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ নাজিরাবাদের একটি শুকনো খাবারের গোডাউনে প্রথম আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। ওই গোডাউনে মূলত প্যাকেটজাত শুকনো খাবার এবং ঠান্ডা পানীয়ের বোতল মজুত থাকত। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, গোডাউনের ভিতরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ডেকরেটার্সের গোডাউনেও। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থার গোডাউনে আগুন লাগে।
খবর পেয়ে একে একে ১৪টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে সরু রাস্তার কারণে দমকলের গাড়ি ঢুকতে সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ। আগুনের তীব্রতায় গোডাউনের দেওয়ালে ফাটল ধরে, টিনের ছাউনির একাংশ ভেঙে পড়ে। ভিতরে থাকা একাধিক বাইক সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
দুটি গোডাউনের ভিতরেই আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন কর্মী। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় একাধিক শ্রমিকের। প্রায় ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় সোমবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তারও অনেক পরে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে দমকল বাহিনী। ততক্ষণে গোটা এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
