ভারতযেদিকে দু-চোখ যায়

Tiger : বাঘ-আতঙ্ক ঠেকাতে ‘সেফ হাউস’, নজির গড়ল পিলিভিট …..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কুলতলি, পীরখালির মতো সুন্দরবনের বহু এলাকায় প্রায়ই বাঘের হামলার খবর পাওয়া যায়। গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ঘরবন্দি হয়ে যান, আর বন দপ্তরকে তড়িঘড়ি বাঘের খোঁজে নামতে হয়। এই বাঘ-মানুষ সংঘাত কমাতে এক নতুন পথ দেখাল উত্তরপ্রদেশের পিলিভিট।

নবভারত টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইচ জেলার দুধওয়া টাইগার রিজার্ভ লাগোয়া কাটারনিয়াঘাট বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাশে থাকা গ্রামগুলিতে শুরু হয়েছে একটি নতুন উদ্যোগ। সেখানে গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ‘প্রিডেটর প্রুফ হাউস’ বা সেফ হাউস। এই প্রকল্পটি আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে লোহরা গ্রাম থেকে।

এই সেফ হাউসগুলিতে এমন সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে বাঘ বা চিতাবাঘের মতো হিংস্র প্রাণী কাছে এলেই মানুষ নিরাপদ থাকতে পারেন। ঘরগুলিতে রয়েছে শক্ত ধাতব দরজা, যা বিপদের সময় নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া আছে মোশন সেন্সিং লাইট— সামান্য নড়াচড়া হলেই আলো জ্বলে উঠবে। এই আলো চলে সৌরশক্তিতে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা হয়েছে হুটার ও অ্যালার্ম ব্যবস্থাও।

ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার কনফ্লিক্ট মিটিগেশন বিভাগের প্রধান অভিষেক ঘোষাল জানিয়েছেন, এই ঘরগুলির সঙ্গে মানুষকে বন্যপ্রাণী থেকে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

মোট ছয়টি গ্রামে এই ধরনের সেফ হাউস ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে। মাটি থেকে ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু এই ঘরগুলির দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার এবং চওড়া ৩৩ মিটার। প্রতিটি ক্লাস্টার তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা।

কাটারনিয়াঘাট এলাকার আশপাশে প্রায় ৫০০-র বেশি পরিবার বসবাস করেন। প্রতি বছর এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর হামলায় গড়ে ৭ থেকে ৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়। নতুন এই উদ্যোগে সেই মৃত্যুর সংখ্যা কমবে বলেই আশাবাদী বন দপ্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *