সাধারণতন্ত্র দিবসে ইতিহাস গড়ছেন কাশ্মীর কন্যা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের কন্যা সিমরন বালা। মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে সিআরপিএফের একটি সম্পূর্ণ পুরুষ সদস্যদের ইউনিটকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এই ইউনিটে রয়েছেন ১৪০ জনেরও বেশি পুরুষ জওয়ান।
২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রতি বছরের মতোই দেশের সেনা ও আধাসেনা বাহিনীর কুচকাওয়াজ এবং যুদ্ধবিমানের মহড়া দেখবে গোটা বিশ্ব। সেই কুচকাওয়াজেই সিআরপিএফের যে ইউনিট অংশ নেবে, তার সামনের সারিতে থাকবেন সিমরন বালা।
রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছের একটি গ্রামে জন্ম সিমরনের। পাকিস্তানি হামলার আশঙ্কায় ঘেরা ওই এলাকায় বড় হয়ে ওঠার মধ্যেই তাঁর মনে জন্ম নেয় দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন। কলেজে পড়াকালীনই ইউপিএসসি-র সিএপিএফ পরীক্ষায় বসেন তিনি। ২০২৩ সালে প্রথম চেষ্টাতেই সফল হন সিমরন। ১৫১ জনের মধ্যে তাঁর র্যাঙ্ক ছিল ৮২। ওই বছর জম্মু-কাশ্মীর থেকে একমাত্র তিনিই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বর্তমানে সিমরন সিআরপিএফে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট পদে কর্মরত। নিজের জেলা থেকে উঠে আসা একমাত্র মহিলা অফিসার হিসেবেও তিনি নজির গড়েছেন। সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের অনুশীলনের সময়েই তাঁর দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণ চোখে পড়ে কর্তৃপক্ষের। তার পরই তাঁকে ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্ব পেয়ে আপ্লুত সিমরন জানিয়েছেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যুদ্ধবিধ্বস্ত কাশ্মীর থেকে দেশের সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছনোর তাঁর এই যাত্রা অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে বহু কিশোরীর কাছে। রাজৌরির মেয়েরা এখন স্বপ্ন দেখছে সিমরনের মতো ইউনিফর্ম পরে দেশের সেবা করার।
