রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: এবার আত্মসমর্পণ করতেই হবে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে। এজন্য আগামী ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। তার পরে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সোমবার বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে খুনের মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলেই নির্দেশে জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তদন্তকারীরা রিমান্ডে চাইলে, সে আবেদনও গৃহীত হতে পারে।
তবে প্রশ্ন প্রশান্ত এখন কোথায়? গত মাসের শেষের দিকে হাইকোর্টে আগাম জামিন খারিজের পর থেকেই বেপাত্তা তিনি। অফিসেও আসছেন না। এরমধ্যেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত বর্মন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। পরে বিধানগর মহকুমা আদালতে হাজিরা দিয়ে তা কার্যকর করেন তিনি। এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন হয়। এরপরই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। যেখানে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করার আবেদন জানানো হয়। সেই মামলায় শুনানি শেষে দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে আদালত। শুধু তাই নয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলেও নির্দেশে জানান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত বর্মন। উলটে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। আজ সোমবার সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আগামী ২৩ তারিখের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেক দত্তাবাদ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে। বিডিও প্রশান্ত বর্মন নীলবাতি লাগানো গাড়িতে তাঁকে অপহরণ করেন বলেই অভিযোগ। নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে স্বপনবাবুর উপর নির্যাতন করা হয়। তারপর খুন এবং দেহ লোপাট। পরদিন নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ অক্টোবর এই ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার।
