আজকের দিনেখেলাবিশ্বভারত

Commonwealth Games : দারিদ্র্য-শোক পেরিয়ে গ্লাসগোয় ইতিহাস: কমনওয়েলথে প্রথম ভারতীয় জুডোকা সোনাজয়ী অস্মিতা দে !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক:- শুক্রবার গ্লাসগো ২০২৭ কমনওয়েলথ গেমসে গোটা দেশকে গর্বিত করলেন ত্রিপুরার অস্মিতা দে। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে তিনি প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথের মঞ্চে দেশের পতাকা উঁচু করলেন। দারিদ্র্য আর কঠিন বাস্তবতাকে হার মানিয়ে এই জয় শুধু একটি পদক নয়, ভারতের জুডোর জন্য নতুন যুগের সূচনা।

দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম অস্মিতার। বাবা গণেশ দে ছিলেন পেশায় সাইকেল মেকানিক। অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। জীবনে সম্বল বলতে ছিল প্রাণবন্ত মন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর খেলাধুলোর প্রতি অদম্য ভালোবাসা। পরিবারের উৎসাহ আর শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় জুডোর সঙ্গে পরিচয়। শুরুতে এটা সাধারণ খেলাই ছিল, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তার প্রতিভা প্রশিক্ষকদের চোখে পড়ে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ — কোনও কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলন, নিয়মানুবর্তিতা আর জেতার প্রবল ইচ্ছা তাকে ধীরে ধীরে জাতীয় স্তরে পৌঁছে দেয়।

জুডো এমন একটি খেলা যেখানে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, ভারসাম্য, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তাও সমান জরুরি। অস্মিতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই গুণগুলো আয়ত্ত করেন। মহিলাদের ৪৮ কেজি ওজন বিভাগে তিনি একের পর এক রাজ্য ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে থাকেন এবং জাতীয় জুডো দলে সুযোগ পান। এরপর শুরু হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার যাত্রা। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছেন। এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জেতার পর জুনিয়র এশিয়া কাপে সোনা জেতেন। এশিয়ান ওপেনে তিনি রৌপ্য পদকও পেয়েছেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক জুডো প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই সব অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করেই অবশেষে ২০২৭ কমনওয়েলথ গেমসে এসে সোনা জয়। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেননি, ভারতের জুডো ইতিহাসে লিখেছেন এক নতুন অধ্যায়।

অস্মিতা দে প্রমাণ করলেন পরিকাঠামো বা অর্থের অভাব স্বপ্নকে আটকাতে পারে না। তার এই সাফল্য ত্রিপুরার প্রতিটি প্রত্যন্ত এলাকার মেয়ের জন্য অনুপ্রেরণা। আজ ভারতের জুডো এক নতুন উচ্চতায়, আর সেই উচ্চতার নাম অস্মিতা দে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *