আজকের দিনেভারতরাজনীতি

KALYAN BANARJEE : ঘরে-বাইরে চাপে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: লোকসভা থেকে সাসপেন্ড কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- কালীঘাট তৃণমূলের প্রথম সারির সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার লোকসভা থেকেই সাসপেন্ড হলেন (KALYAN BANARJEE)। মহিলা সাংসদদের অপমান ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য তাকে সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার ওম বিড়লা। একদিন আগেই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছিলেন শ্রীরামপুরের এই সাংসদ।

বুধবার লোকসভার অধিবেশন শুর পরই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ এনসিপিআই শিবিরের সাংসদদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান কল্যাণ (KALYAN BANARJEE)। এনসিপিআই-এর শতাব্দী রায়, মিতালী বাগদের ‘দলবদলু’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। প্রতিবাদে শুরু হয় তর্কাতর্কি। অভিযোগ, এই সময় কল্যাণ মহিলা সাংসদদের অপমানজনক মন্তব্য করেন। এরপরই স্পিকারের কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান এনসিপিআই নেতৃত্ব। মহিলা সাংসদদের অপমান ও নারীবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়রা সরব হন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কল্যাণকে বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড করেন স্পিকার ওম বিড়লা।

সাসপেন্ড হয়ে বেরোনোর সময়ও কল্যাণ বিদ্রোহীদের নিশানা করেন (KALYAN BANARJEE) । তার বক্তব্য, “দরকারে বাইরে থাকব। কিন্তু বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।”

একদিন আগেই ধর্মতলায় কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাই সভায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ভাষণ নিয়ে আপত্তি করে সভামঞ্চ ছাড়েন কল্যাণ। বুধবার সকাল থেকেও দলের বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্য করে যাচ্ছিলেন তিনি। কল্যাণের এই সাসপেনশন কালীঘাট তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। বর্তমানে কালীঘাটের হাতে মাত্র জনা আটেক সাংসদ রয়েছেন। কল্যাণ তাদের মধ্যে দলের মুখ্য সচেতক এবং সরকার-বিরোধিতার অন্যতম মুখ। সংসদে তার অনুপস্থিতি দলের চাপ আরও বাড়াবে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তার কথায়, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক। বেইমানদের প্রটেক্টররা কল্যাণ দা দের সাসপেন্ড করছেন। কল্যাণ দা যা করেছে যা বলেছেন ঠিক করেছেন।”

একুশের মঞ্চে দলনেত্রীর সঙ্গে বিবাদ, তারপর সংসদে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে বচসা। টানা বিতর্কের মাঝেই সাসপেনশন। ঘরে এবং বাইরে দু’দিক থেকেই চাপে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের কাছে এখন প্রশ্ন, সংসদে দলের অন্যতম প্রধান কণ্ঠকে ছাড়া বাকি অধিবেশন কীভাবে সামলাবে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *