আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

21st July : ২০১১ সালের পর প্রথম! ২১ জুলাই সভামঞ্চে গরহাজির নেতাইয়ের শহিদ পরিবারগুলি !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম শহিদ দিবসের কলকাতার মঞ্চে দেখা গেল না নেতাইয়ের শহিদ পরিবারগুলিকে। তৃণমূলের কোনও পক্ষ থেকেই এবার তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ১৪ বছর পর ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে।

নেতাই শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক তথা তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সাধারণ সম্পাদক জয় রায়ের মাধ্যমেই এতদিন পরিবারগুলি কলকাতার শহিদ মঞ্চে উপস্থিত থাকতেন। রাজ্য নেতৃত্বও তাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু এবার তাঁর কাছে কোনও পক্ষের ফোন আসেনি।
জয় রায় বলেন, “শহিদ পরিবারগুলিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি ফোন পাইনি।” তিনি কোন পক্ষে আছেন জানতে চাইলে বলেন, “যদি থাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকব। অন্য কোনও পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

শহিদ অরূপ পাত্রের দাদা কার্তিক পাত্র বলেন, “আমরা প্রতিবার যাই। আমাদের জয় রায় নিয়ে যান। এবার কোনও ডাক পাইনি। তাই যাওয়া হয়নি।” তবে তিনি যোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ পরিবারগুলিকে চাকরি দিয়েছেন। সে কথা আমরা কখনও ভুলতে পারি না।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি লালগড়ের নেতাই গ্রামে হার্মাদের গুলিতে তিন মহিলা-সহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ২৮ জন। এরপর রাজ্য সরকারের তরফে নিহতদের পরিবারের একজনকে চাকরি এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারপর থেকে প্রতি বছরই শহিদ পরিবাররা মঞ্চে থাকতেন।

অন্যদিকে এদিন কলকাতার তারা মণ্ডল রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহিদ মঞ্চে জেলার গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতাদের দেখা না গেলেও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী, ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক বিরবাহা হাঁসদা। তিনি সাঁওতালি ও বাংলায় বক্তব্য রেখে বলেন, “যতদিন শরীরে রক্ত থাকবে ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রীর পাশে রয়েছি।”
এদিন ঝাড়গ্রাম থেকে জেলা কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরাও মোটামুটিভাবে তাদের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নেতাইয়ের শহিদ পরিবারদের এবারের অনুপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। চাকরি ও সম্মানের কথা মনে রাখলেও আমন্ত্রণ না পাওয়ায় মঞ্চে হাজির হতে পারেননি তাঁরা—যা ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক বার্তায় একটা বড় ফাঁক রেখে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *