আজকের দিনেভারত

Sonam Wangchuk: ‘চিকিৎসা চলবে সরকারি হাসপাতালেই’ সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর আর্জি খারিজ দিল্লি হাইকোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা-  দিল্লির সফদরজং হাসপাতালেই থাকতে হবে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে। সোনমকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিতে দিল না দিল্লি হাইকোর্ট। গতকাল দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ এসে সোনমকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে লাদাখের এই সমাজকর্মী সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনও পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙেননি বলে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো জানিয়েছেন। আংমোর অভিযোগ, এই সরকারি হাসপাতালে সোনমের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। কী চিকিৎসা হচ্ছে কিছু জানানো হচ্ছে না। তার পারিবারিক চিকিৎসক ও আইনজীবীকে হাসপাতালের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। গীতাঞ্জলির অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল যেন একটি জেলখানা। গীতাঞ্জলি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত কোনও মিষ্টি খাননি সোনম। খালি নুন জল খেয়েই আছেন। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চেয়ে দিল্লির হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন গীতাঞ্জলি আংমো। কিন্তু সায় দিল্লি না আদালত।

বিচারপতি মিনি পুষ্করণার নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ আজ বিকেলে রায় দিয়েছে যে, এটি কোনও খেয়ালখুশিমতো নেওয়া পদক্ষেপ ছিল না। কারণ স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে হাসপাতালে ভর্তি হননি, তাই তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সরকারের ছিল। এই পর্যায়ে কোন অন্তর্বর্তী আদেশ পাস করার প্রয়োজন নেই,” তিনি বলেছিলেন। বর্ষীয়ান  আইনজীবী বিবেক তঙ্খা জানিয়েছেন, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এই আদেশের বিরুদ্ধে দুই বিচারপতির বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ জানাবেন এবং আগামীকালই জরুরি শুনানির আবেদন করবেন।

আজকের শুনানির সময় একজন চিকিৎসক জানান যে, ওয়াংচুকের সম্মতিতেই তাঁকে চিনি-বিহীন মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি পুষ্করণা বলেন, “যেহেতু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁর ওপর নিবিড় নজর রাখছেন এবং তাঁর সম্মতিতেই তাঁকে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়েছেন, তাই একথা বলা যায় না যে জোর-জবরদস্তি করা হচ্ছে বা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।”

আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, আংমো এবং ওয়াংচুকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবাধে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

স্বচ্ছতার অভাবের কারণে হাসপাতালের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে আংমোর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ ভোরেই এই জরুরি শুনানির আয়োজন করা হয়।

 

আংমোর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল জানান যে, তিনি নিজেকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে চান। তিনি আদালতকে বলেন, “যা কিছুই করা হোক না কেন, তা আমার পছন্দের কোনো ডাক্তারকেই করতে হবে। এটা আমার শরীর, আর কোথায় যাব সেই সিদ্ধান্ত আমিই নেব।”

অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মার মাধ্যমে সরকার জানিয়েছে যে, ওয়াংচুকের কোনো ক্ষতি হলে তার গুরুতর পরিণতি হবে। তাঁকে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে তাঁর স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শর্মা উল্লেখ করেন যে, এমনকি রাষ্ট্রপতিও সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *