আজকের দিনেখেলাবিশ্ব

Sir Garry Sobers : না ফেরার দেশে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স, ৮৯-এ শেষ নিঃশ্বাস !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক:- শেষ হল একটি যুগের। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়াত হলেন ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স। বয়স হয়েছিল ৮৯। দু’সপ্তাহ পরেই ছিল তাঁর ৯০তম জন্মদিন। প্রয়াণের খবর ছড়াতেই শোকের ছায়া ক্রিকেট বিশ্বে। ব্যাট-বল-ফিল্ডিং – তিন বিভাগেই দাপট দেখানো এই কিংবদন্তির কীর্তি থেকে যাবে চির অমলিন।

ক্রিকেটের ঈশ্বর স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান তাঁকে বলতেন ‘ফাইভ ইন ওয়ান’ ক্রিকেটার। আর সত্যিই তাই ছিলেন গ্যারি সোবার্স। বাঁ হাতে ব্যাট হাতে ধুন্ধুমার, ইনিংসের শুরুতে নতুন বলে ওপেন বোলিং, বল পুরনো হলে চায়নাম্যান স্পিন, প্রয়োজনে মিডিয়াম পেস, আর ফিল্ডিংয়ে বিদ্যুতের ক্ষিপ্রতা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওয়ানডে বা আজকের টি২০-র যুগেও তাঁকে রোখা যেত না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনিই প্রথম ব্যাটার যিনি এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকান। শেষ ছক্কাটি এতটাই বিশাল ছিল যে বলা হয়েছিল ‘ওটা ছয় নয়, বারো’ – বল গিয়ে পড়েছিল স্টেডিয়াম পেরিয়ে কার পার্কের পাশের রাস্তায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক, পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ডাক। তখনই ক্যারিবিয়ানরা বিশ্বক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করছে, সেই দলেই ঢুকে পড়ে এক কিশোর গড়ল অবিশ্বাস্য কীর্তি। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করলেন অপরাজিত ৩৬৫। স্যার লেন হাটনের রেকর্ড ভেঙে সেটাই হয়ে গেল টেস্টে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। রেকর্ডটি টিকেছিল ৩৬ বছর, ১৯৯৪ সালে ভাঙেন তাঁরই স্বদেশী ব্রায়ান লারা। ৯৩টি টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ৮০৩২ রান, গড় ৫৭.৭৮, ২৬টি শতরান। বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট, ধরেছেন ১০৯টি ক্যাচ। প্রায় দেড়শো বছরের টেস্ট ইতিহাসে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রায় বিরল। কিন্তু সোবার্স শুধু সংখ্যা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপুঞ্জের ‘মসিহা’। অধিনায়ক হিসেবে বহু ক্রিকেটারকে তুলে এনেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনিই প্রথম বলেছিলেন ভারতই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’। কপিল দেবের দলের ভিতরের সুপার পাওয়ার তাঁর জহুরির চোখ ঠিকই চিনেছিল। ক্রিকেট যাদের কাছে ধর্ম, সেই মানুষদের কাছে সোবার্স ছিলেন আদর্শের নাম।

স্যার গ্যারি সোবার্স শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের নন, গোটা বিশ্বের ক্রিকেট ও ক্রীড়াজগতের চিরবিস্ময়। তাঁর শরীর থেমে গেছে, কিন্তু বিস্ময়টা থেকে গেল। যতদিন ক্রিকেট থাকবে ততদিন উচ্চারিত হবে সোবার্সের নাম। শ্রদ্ধা আর সম্ভ্রমের সঙ্গে তিনি থেকে যাবেন খেলার ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তিমান হিসেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *