দীর্ঘ ১২ বছরের অবসান! আদালতের নির্দেশে শুরু উচ্চ প্রাথমিকের কাউন্সেলিং
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:-এক যুগ ধরে চলা আইনি লড়াই ও মানসিক যন্ত্রণার অবসান। অবশেষে দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষা শেষে স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে চলেছেন ১,১৭৭ জন উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থী। আদালতের সবুজ সংকেত মেলার পর স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) কাউন্সেলিংয়ের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী ২১শে জুলাই থেকে ৩০শে জুলাই পর্যন্ত চলবে এই কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীদের নির্দিষ্ট দিনে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বিধাননগরের করুণাময়ীর ‘আচার্য সদন’-এ উপস্থিত হতে হবে।
কেন আটকে ছিল এই নিয়োগ প্রক্রিয়া?
এই নিয়োগের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও জটিল। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে উচ্চ প্রাথমিকের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ২০১৬ সালে অংশ নিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু একের পর এক আইনি মামলা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে যায় প্রক্রিয়া।
-
সরকার পরিবর্তনের ধাক্কা: ২০২৪ সালে আদালতের নির্দেশে আট দফায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের কাজ বেশ কিছুটা এগোলেও তা পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায়নি। এরপরই দেশে লোকসভা নির্বাচন, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালে বাংলায় সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কারণে প্রশাসনিক স্তরে নিয়োগের কাজ পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল।
-
প্যানেলের বর্তমান স্থিতি: মূল মেধাতালিকায় থাকা মোট ১২,৭২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে সিংহভাগেরই নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। বাকি থেকে গিয়েছিল ১,২৪১ জন প্রার্থীর নিয়োগ।
আদালতের হস্তক্ষেপে কাটল জট
দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর সম্প্রতি আদালত বাকি থাকা শূন্যপদের মধ্যে ১,১৭৭ জনের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। তবে আইনি ও টেকনিক্যাল কারণে এখনও ৬৪টি শূন্যপদে নিয়োগ বাকি থাকবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
কাউন্সেলিং সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশিকা:
-
তারিখ: ২১শে জুলাই থেকে ৩০শে জুলাই, ২০২৬ (ধাপে ধাপে বিষয় ও র্যাঙ্ক অনুযায়ী)।
-
সময়: প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট (রিপোর্টিং টাইম)।
-
স্থান: আচার্য সদন, বিধাননগর, কলকাতা।
কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, প্রার্থীদের তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় অরিজিনাল নথিপত্র এবং সেগুলির জেরক্স কপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। একাধিকবার কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে নিয়োগ প্রক্রিয়া গতি পাওয়ায় খুশির হাওয়া ১,১৭৭ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারে।
