আজকের দিনেবাংলার আয়না

ডানকুনিতে ৬০০ কোটির মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা​, হুগলি: সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা না হওয়ার ক্ষত আজও ভোলেনি হুগলি। তবে রাজ্যে সরকার বদলাতেই নতুন করে শিল্পের আশায় বুক বাঁধছেন সিঙ্গুর তথা গোটা হুগলি জেলার অগণিত কৃষক ও সাধারণ মানুষ। এবার সিঙ্গুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ডানকুনিতে তৈরি হতে চলেছে এক বিশাল শিল্পতালুক। আজ, ডানকুনিতে হোসিয়ারি জায়ান্ট ‘লাক্স কোজি’-র নতুন মেগা প্ল্যান্টের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
​ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বদলের বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা শিল্পের খরা কাটাতে এই প্রকল্পকে একটি মস্ত বড় ‘ব্রেক-থ্রু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডানকুনিতে প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠতে চলেছে এই বিশাল কারখানা।

৬০০ কোটির বিনিয়োগ, এক নজরে নতুন প্রকল্প:
​লজিস্টিক হাব হিসেবে ডানকুনি আগে থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক ই-কমার্স সংস্থার হাব রয়েছে এখানে। এবার লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই নতুন উদ্যোগে হুগলির শিল্প মানচিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে।
​বিনিয়োগের পরিমাণ: লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের তরফে এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
​কারখানার আয়তন: পুরনো ইউনিটের পাশাপাশি নতুন করে আরও ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা যুক্ত হচ্ছে। ফলে পুরনো ও নতুন মিলিয়ে মোট আয়তন দাঁড়াবে প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট।
​কর্মসংস্থান: কারখানা পুরোদমে চালু হলে একধাক্কায় বিপুল কর্মসংস্থান বাড়বে এলাকায়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন কয়েক হাজার যুবক-যুবতী।
​খুশির হাওয়া শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে
​এই মেগা প্রকল্পের ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে কারখানার পুরনো কর্মীরাও। পুরনো কারখানায় কর্মরত মানসী ঘোষ নিজের আনন্দ প্রকাশ করে বলেন:
​”নতুন প্ল্যান্ট হলে আরও কাজের সুযোগ বাড়বে। এলাকার লোকের অনেক উন্নতি হবে। গোটা রাজ্যের জন্যই এটা একটা দারুণ ভালো উদ্যোগ।”
​জনাই থেকে এই এলাকায় কাজে আসেন পীযূষ কান্তি ঢালি। নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন সরকার শিল্পের দিকে আরও নজর দিক, আরও কারখানা হোক। বেকার যুবকরা কাজ পাক। তবে একই সাথে সরকারের কাছে আমাদের দাবি— শ্রমিকদের বেতনের একটা নির্দিষ্ট রূপরেখা ঠিক করা হোক এবং ন্যূনতম ২১ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হোক।”
ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে হুগলি
​ডানকুনি ও সংলগ্ন অঞ্চলের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই প্রকল্প আগামীদিনে আরও অনুসারি শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা ও ছোট ব্যবসাকে চাঙ্গা করবে বলে মনে করছে প্রশাসন। সিঙ্গুরের অধরা শিল্পের স্বপ্ন এবার ডানকুনির হাত ধরে পূরণ হতে চলেছে, এই আশায় এখন প্রহর গুনছে হুগলিবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *