আজকের দিনেভারত

Jaipur Neeraj Case: নীরজ কাণ্ডে নয়া মোড়! শুধু মাকে না, সরকারি চাকরির লোভে বাবাকেও খুন মেয়ের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- সরকারি চাকরির লোভে নিজের মাকে খুনের অভিযোগ ওঠে মেয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, বাবার মৃত্যুর পরে সেই চাকরি মা পেয়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে খুনের ছক কষেন আরুশি। কিন্তু তদন্ত এগোতে থাকার পরেই ২৩ বছরের আরুশির কাণ্ডে হতবাক পুলিশের আধিকারিকেরা। মায়ের আগে বাবাকে খুন করেছিলেন এই তরুণী। এমনটাই অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। রাজস্থানে জয়পুরের থাকতেন নীরাজ শর্মা। আয়ুশির মা নীরাজ তিনি জয়পুরের একটি আদালতে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (এলডিসি) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুলাই প্রতাপ নগর এলাকায় তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তদন্তে নেমে পুলিশের দাবি, আয়ুশি তাঁর কাকা এবং খুড়তুতো ভাইয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক ভাড়াটে খুনি নিযুক্ত করে। এর পর ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে বাবা নীরজ শর্মাকে হত্যা করে।

পুলিশ জানতে পারেন, খুনের কারণ ছিল বাবার সরকারি চাকরি। সেই চাকরিটি আয়ুশি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর খুন স্বাভাবিকভাবে সেই চাকরিটি পেয়ে যান মা। এর পরে মা ও মেয়ের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর পরেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘোঁট পাকিয়ে চক্রান্ত করে আয়ুশি। এমনটাই দাবি পুলিশের। কেবল চাকরি ছিল, তার নজরে ছিল সম্পত্তিও। এবার আরও চমক। তদন্ত আরও এগোতেই দেখা যায় আয়ুশির বাবা বিজয় শর্মার মৃত্যুও স্বাভাবিক নয়। আয়ুশির মামার এক মন্তব্য থেকে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। আয়ুশির মামার দাবি, বিজয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় চিকিৎসা শুরু হলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন তিনি। বাবার সুস্থতা মেনে নিতে পারছিল না আয়ুশি। খুড়তুতো ভাই বলরামের সঙ্গে মিলে বিজয়কে অন্যত্র নিয়ে যান তিনি। দাবি করেন,  বাবার জন্য ভালো চিকিৎসকের সন্ধান পেয়েছেন। পরবর্তী তিন মাস বিজয় কোথায় ছিলেন তা কেউ জানত না। হঠাৎ আয়ুশি জানান, বাবাকে বাবাকে জয়পুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আত্মীয়রা সেখানে বিজয়কে দেখতে গেলে জানতে পারেন, তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত! বাড়িতে ফেরানো হয় বিজয়কে, কিন্তু কিছুদিন পর মারা যান তিনি। বিজয়য়ের মৃত্যুর পর আয়ুশি দাবি করেন, বাবার চাকরিটা পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন তিনি। কিন্তু বাদ সাধেন নীরজ। এর পরেই মা নীরজের সঙ্গে সংঘাত চরমে ওঠে। সেই সময় আয়ুশি তার মাকে হুমকি দেন, বাবাকে যেমন খাবার খাওয়ানোর নল খুলে দিয়ে খুন করা সম্ভব হয়েছিল, তাঁকে খুন করা তার থেকেও বেশি সহজ হবে। মেয়ের এই জঘন্য কীর্তিতে হতবাক পুলিশও।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *