RED SEA :যুদ্ধের দামামা এবার লোহিত সাগরে! ইয়েমেনের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, নেপথ্যে কারা?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- হরমুজ আপাতত শান্ত, কিন্তু উত্তাল হল লোহিত সাগর (RED SEA)। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় রবিবার হামলার শিকার হল একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার না করলেও, আঙুল উঠছে ইরান সমর্থিত হাউথিদের দিকে। আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে সোমালি জলদস্যুরাও।
রবিবার ব্রিটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস UKMTO এক বিবৃতিতে জানায়, ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর হোদাইদার কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। হোদাইদা এলাকা ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হাউথিদের নিয়ন্ত্রণে। হামলার সময় জাহাজটি উপকূল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই জাহাজের নাবিকরা আশেপাশের জাহাজগুলিকে সতর্ক করেন। যদিও এই হামলায় বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে ঘটনাটি লোহিত সাগরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
কে বা কারা এই হামলা চালাল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুমান হাউথিদের দিকেই। কারণ এই হামলা এমন সময়ে হল যখন হাউথিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ফের হামলার হুমকি দিয়েছে। এর আগেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধের সময় হাউথিরা দক্ষিণ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলি বাধ্য হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত কেপ অফ গুড হোপ দিয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে জাহাজ চালাতে শুরু করে।
তবে শুধু হাউথি নয়, এই অচলাবস্থার সুযোগে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে সোমালি জলদস্যুরা। এডেন উপসাগর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাদের সক্রিয়তা আবার নজরে এসেছে। গত ১ জুলাই দক্ষিণ-পূর্ব ইয়েমেনের বন্দর নগরী বালহাফের ৭৬ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ছোট নৌকা থেকে এসে একটি জাহাজের কন্ট্রোল রুমে হামলা চালায়। UKMTO-এর রিপোর্ট বলছে, এই হামলার পেছনেও সোমালি জলদস্যুদের হাত থাকতে পারে।
আপাতত বড় ক্ষতি না হলেও এই হামলা লোহিত সাগরে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হাউথি না জলদস্যু – তদন্ত চলছে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, গাজা যুদ্ধের আঁচ যে লোহিত সাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্ব বাণিজ্যের ১২% এই পথ দিয়েই হয়, তাই ফের সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বের বাজারে।
