মিড ডে মিলে আমিষ বাদ দিয়ে ইসকনকে দায়িত্ব! ‘ষড়যন্ত্র’ ও কর্মহীনতার আশঙ্কায় হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলির মিড ডে মিলে বড়সড় বদল আনতে চলেছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। এবার থেকে মিড ডে মিলের মেনুতে আমিষের বদলে জায়গা পেতে চলেছে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার। আর খাবার সরবরাহের এই গোটা দায়িত্বটি তুলে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক হিন্দু ধর্মীয় সংস্থা ‘ইসকন’-এর হাতে। রাজ্য সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াই শুরু হলো। সরকারের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন বিতর্ক? মুখ্যমন্ত্রী ও ইসকনের বক্তব্য
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ২৪ জুন, বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট পেশের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি বড় ঘোষণা করে জানান যে, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব এখন থেকে ইসকনকে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, গুজরাটসহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে মিড ডে মিল সরবরাহের কাজ অত্যন্ত সুনামের সাথে করে থাকে এই ধর্মীয় সংস্থা। এই ঘোষণার পর কলকাতার ইসকনের তৎকালীন সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, আমিষ খাবার বন্ধ হলেও পুষ্টির কোনো খামতি থাকবে না। মেনুতে সোয়াবিন, রাজমা ও পনীরের মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত নিরামিষ উপকরণ রাখা হবে।
পুষ্টির অভাব ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মহীনতার আশঙ্কা
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন মামলাকারী। কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় মূলত তিনটি বড় প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হয়েছে:
১. পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা: মামলাকারীর প্রধান অভিযোগ, স্কুলপড়ুয়াদের বাড়ন্ত বয়সে ডিম বা আমিষ খাবারের যে পুষ্টিগুণ প্রয়োজন, তা নিরামিষ খাবার থেকে পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নাও হতে পারে। এর ফলে শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে। ২. স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থান হরণ: এতদিন ধরে স্থানীয় স্তরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self Help Group) অসংখ্য মহিলা মিড ডে মিল রান্নার কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। ইসকনকে এই বড় বরাত দেওয়ার ফলে ওই সমস্ত দরিদ্র কর্মজীবী মহিলারা তাঁদের উপার্জনের রাস্তা হারাবেন এবং চরম কর্মহীনতার মুখে পড়বেন। ৩. ধর্মীয় সংস্থাকে বরাতের নেপথ্যে প্রশ্ন: একটি নির্দিষ্ট হিন্দু ধর্মীয় সংস্থাকে এভাবে মিড ডে মিলের বরাত দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
মিড ডে মিলের মতো একটি স্পর্শকাতর এবং লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার সাথে যুক্ত বিষয়ে এই আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। কলকাতা হাই কোর্ট এই জনস্বার্থ মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এখন দেখার, আদালতের হস্তক্ষেপে সরকারের এই নিরামিষ মেনু ও ইসকনকে বরাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে নাকি কোনো নতুন নির্দেশ আসে।
