আজকের দিনেঅন্যান্য

কমছে আত্মবিশ্বাস? সন্তানের মানসিক ক্ষতি এড়াতে আজই পরিহার করুন এই ৬টি আচরণ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- প্রত্যেক বাবা-মা-ই সন্তানের ভালো চান। বড় হয়ে সে মানুষের মতো মানুষ হবে, বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে— এমন কতই না স্বপ্ন থাকে বাড়ির ছোট সদস্যটিকে ঘিরে। কিন্তু অজান্তেই কখনও কখনও অভিভাবকেরা সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করে বসেন, যার ফলে একরত্তির মনের উপর গভীর কুপ্রভাব পড়ে। এমনকি কম বয়সেই তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সন্তানের সুস্থ মানসিক বিকাশ ও তাকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে বাবা-মায়ের কোন কোন আচরণ আজই পরিহার করা উচিত, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. অন্যের সঙ্গে তুলনা করা

সহপাঠী পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে, কিংবা কোনো তুতো ভাইবোন বেশি প্রতিভাধর— প্রায়শই এমন কথা অনেক অভিভাবক সন্তানকে বলে থাকেন। বাবা-মা হয়তো সন্তানকে অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে এটি করেন, কিন্তু বাস্তবে এই তুলনা শিশুটির আত্মসম্মানে গভীর আঘাত করে এবং তার মনে হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়।

২. অতিরিক্ত ব্যস্ত দৈনিক সময়সূচি

সন্তান যেন ‘অলরাউন্ডার’ হয়, এই উদ্দেশ্যে স্কুলের পরেও একাধিক প্রাইভেট টিউশন এবং একের পর এক নাচ-গান-সাঁতার-আবৃত্তির ক্লাসে তাকে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। এই অতিরিক্ত ব্যস্ত সময়সূচির কারণে শিশুটি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের সহজ গতিতে বিকশিত হওয়ার বদলে বড়দের মনোমতো হওয়ার চাপ তাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়।

৩. ভুলের জন্য অতিরিক্ত বকাবকি

ছোটরা ভুল করবেই, এবং তাদের শাসন করার গুরুত্বও রয়েছে। কিন্তু অনেক অভিভাবকই অকারণে বা সামান্য ভুলে মাত্রাতিরিক্ত বকাবকি করতে থাকেন। এতে শিশুরা শাসনের চেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, বাবা-মায়ের প্রতি বিশ্বাস হারায় এবং নিজেদের বাঁচাতে তাদের মধ্যে মিথ্যে বলার প্রবণতা জন্মায়।

৪. সামনে বড়দের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা

অনেকেই ভাবেন ছোটরা কিছু বোঝে না, তবে এই ধারণা একদম ঠিক নয়। বড়দের হাবভাব দেখে শিশুরা প্রায়শই পরিস্থিতির জটিলতা আন্দাজ করে ফেলে। বাবা-মা যদি সন্তানের সামনে পারিবারিক বা যেকোনো জটিল সমস্যা নিয়ে খোলামেলাভাবে আলোচনা করেন, তবে তা খুদেটির মনে নেতিবাচক ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করে।

৫. সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া

ছোটরা যেমন সহজে আঘাত পায়, তেমনই চট করে খুশিও হয়ে যায়। অনেক সময় বড়রা তাদের ছোট ছোট অনুভূতি বা আবেগকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। এর ফলে শিশুরা নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং অন্তর্মুখী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিলে শিশুরা অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।

৬. ছোটদের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা

অভিভাবক হিসেবে সন্তানকে পথ দেখানো অবশ্যই জরুরি, তবে ছোট বলে তার মতামত বা সিদ্ধান্তকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। জীবনের সব সিদ্ধান্তই যদি বড়রা জোর করে চাপিয়ে দেন, তবে সন্তানদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তি দেখা দেয়। এর বদলে তাদের মত শোনা উচিত এবং ছোটখাটো বিষয়ে নিজেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এতে শিশুটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *