‘ডিজে’ মন্তব্যে অস্বস্তি বহাল, সই জাল মামলায় স্বস্তি অভিষেকের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া মামলায় জড়িয়ে আইনি টানাপোড়েনের মুখোমুখি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মে মাসে বাগুইআটির এক জনসভায় করা তাঁর বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্যের জেরে যেমন সিআইডি তৎপরতা ও আদালতের নির্দেশে চাপ বাড়ছে, তেমনই আবার বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
‘ডিজে’ মন্তব্য মামলা: ঝুলে রইল ভাগ্য, ৮ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ
গত মে মাসে বাগুইআটির একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাঁদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব!”
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার যায় সিআইডি-র হাতে।
-
আদালতের অবস্থান: অভিষেকের আইনজীবীরা (সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় ও অয়ন ভট্টাচার্য) দ্রুত শুনানির জন্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী মঙ্গলবারের আগে কোনো আবেদন শোনা হবে না। মঙ্গলবার অভিষেককে নতুন করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে, তারপরই দ্রুত শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
-
আগামী পদক্ষেপ: আগামী ৮ জুলাই, বুধবার বিধাননগর আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি। হাই কোর্টে মঙ্গলবারের শুনানির ওপর এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে।
সই জাল মামলা: ১৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল আইনি রক্ষাকবচ
অন্যদিকে, বিধানসভায় সই জাল করার অভিযোগে যে মামলা হয়েছিল, তাতে কিছুটা স্বস্তিতে অভিষেক। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চ তাঁর আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।আদালত জানিয়েছে, যেহেতু বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ এই মামলার বিস্তারিত শুনানি করেছে এবং তিনি বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চে রয়েছেন, তাই আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।
কী এই সই জাল বিতর্ক? গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর বিধানসভার সচিব বিরোধী দলনেতার নাম চেয়ে প্রস্তাবপত্র চান। ১৯ মে পুনরায় কালীঘাটে বৈঠক ডেকে উপস্থিত বিধায়কদের সই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিধানসভায় ৭০ জন বিধায়কের সই করা একটি প্রস্তাবপত্র জমা দেয় তৃণমূল।
কিন্তু বিধায়কদের আসল সইয়ের সাথে ওই কাগজের সই না মেলায় সন্দেহ প্রকাশ করেন বিধানসভার সচিব। জল গড়ায় থানা ও সিআইডি তদন্ত পর্যন্ত। দলেরই এক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে, যার জেরে তাঁকে তলব করে সিআইডি।
