নতুন হাসপাতাল খুলতে হবে জঙ্গলমহল-সুন্দরবনে, কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: কলকাতা বা তার শহরতলিতে আর নতুন কোনো বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ খোলার অনুমতি দেবে না রাজ্য সরকার। নতুন করে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ খুলতে হলে উদ্যোগপতিদের যেতে হবে জঙ্গলমহল, সুন্দরবন কিংবা আদিবাসী অধ্যুষিত প্রান্তিক এলাকাগুলোতে। সম্প্রতি নতুন ১০টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ খোলার আবেদন আটকে রেখে এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “পয়সা থাকলে প্রান্তিক এলাকায় খুলুন। আমাদের গ্রামের মানুষের লাভ হবে।”
কেন এই সিদ্ধান্ত? গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় জোর
দীর্ঘ বছর ধরে গ্রামবাংলায় উন্নত বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। গ্রামীণ হাসপাতালগুলোর এই পরিকাঠামোগত খামতি ঢাকতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন:
-
প্রতিটি জেলা হাসপাতালে এমআরআই মেশিন বসানো হচ্ছে।
-
প্রতিটি গ্রামীণ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ১৬টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। নতুন যে ১০টি কলেজ তৈরির প্রস্তাব এসেছে, সেগুলোকে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় নিয়ে গিয়ে গ্রামীণ চিকিৎসার মানোন্নয়ন করতে চাইছে রাজ্য।
চিকিৎসকদের বিশ্বমানের করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন
শুধু পরিকাঠামো নয়, রাজ্যের চিকিৎসকদের আরও পারদর্শী ও বিচক্ষণ করে তুলতে দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার: ১. জাতীয় সম্মেলন: প্রতি বছর রাজ্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় চিকিৎসকদের জাতীয় সম্মেলন হবে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতনামা চিকিৎসকরা এসে নিজেদের মধ্যে চিন্তাভাবনা আদান-প্রদান করবেন। ২. আন্তর্জাতিক সম্মেলন: প্রতি তিন বছরে একবার বঙ্গে আয়োজিত হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের তাবড় চিকিৎসকরা সেখানে আসবেন, যার ফলে বাংলার চিকিৎসকরা পশ্চিমের আধুনিকতম চিকিৎসা প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান লাভ করতে পারবেন।
শহরের বস্তি এলাকার জন্য ২৮০টি বিশেষ ‘মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট’
শহরাঞ্চলের প্রান্তিক ও ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকার মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তৈরি করা হয়েছে ২৮০টি মোবাইল মেডিক্যাল ভ্যান বা ইউনিট।
শনি ও রবিবারই কেন মিলবে এই পরিষেবা? এই মোবাইল ইউনিটগুলো সাধারণ কাজের দিনগুলোতে নয়, বরং শনিবার বিকেল থেকে রবিবার সারাদিন বস্তি এলাকায় থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “বস্তি এলাকার মানুষজন দিন আনে দিন খায়। সপ্তাহের অন্য দিনে মোবাইল ইউনিট দাঁড়ালে রুটিরুজির তাগিদে তাঁরা আসতে পারবেন না, ফলে ভিড় হবে না।”
কী কী আধুনিক সুবিধা থাকবে এই ভ্যানে? দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় নিখরচায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে এই মোবাইল ইউনিটগুলোতে রাখা হচ্ছে:
-
আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন
-
হ্যান্ডহেল্ড এক্স-রে
-
অটো অ্যানালাইজার
রাজ্যের গ্রামীণ প্রান্তিক এলাকা থেকে শুরু করে শহরের বস্তি অঞ্চল— সর্বত্র চিকিৎসা পরিষেবাকে আমজনতার হাতের মুঠোয় এনে দিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের এই জোড়া সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
