সপ্তাহের শুরুতেই চরম দুর্ভোগ! নিউটাউন-বাবুঘাট ২৩৯ নম্বর রুটের বাস বন্ধ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম দিন, সোমবার সকালেই চরম নাকাল নিত্যযাত্রীরা। আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সাপুরজি থেকে বাবুঘাটগামী ২৩৯ নম্বর রুটের বাস পরিষেবা। স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের দাদাগিরি, চালকদের কাজে বাধাদান এবং আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে এদিন সকাল থেকে একটিও বাস রাস্তায় নামেনি। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং ধর্মতলাগামী কয়েক হাজার অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
কেন বন্ধ হলো বাস পরিষেবা?
বাস মালিকদের অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের চরম আর্থিক তছরূপ এবং দাদাগিরি। চালক ও বাসকর্মীদের বোনাস বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা সংগঠনের কাছে জমা রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ বাসকর্মীরা পাননি। মালিকপক্ষ যখন সংগঠনের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চান, তখন তা দিতে অস্বীকার করা হয়। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ, এরপরই সোমবার সকালে চালকরা বাস নিয়ে রাস্তায় বেরোতে গেলে শ্রমিক সংগঠনের তরফে তাঁদের জোর করে বাধা দেওয়া হয় এবং পরিষেবা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ সাহা বাসমালিকদের এই অভিযোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনই জোর করে এই পরিষেবা বন্ধ করে রেখেছে।
স্তব্ধ দীর্ঘ রুট, আতান্তরে মালিক থেকে চালকরা
২৩৯ নম্বর রুটের বাসটি নিউটাউনের সাপুরজি থেকে ছেড়ে ইকো পার্ক, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ হয়ে এস এন ব্যানার্জি রোড ধরে বাবুঘাট পর্যন্ত যায়। এই দীর্ঘ রুটে প্রতিদিন মোট ৩৯টি বাস চলাচল করে। সল্টলেকের আইটি সেক্টর এবং ধর্মতলা চত্বরের যোগাযোগের অন্যতম লাইফলাইন এই রুটটি। হঠাৎ সমস্ত বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কীভাবে এর সমাধান হবে, তা নিয়ে আতান্তরে পড়েছেন বাস মালিকরা। অন্যদিকে কাজ হারিয়ে দিশেহারা সাধারণ চালক ও কন্ডাক্টররাও।
যাত্রীদের ক্ষোভ: নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ এমনিতেই দীর্ঘদিনের। তাঁদের দাবি, এই রুটে সন্ধ্যা ৭টার পর আর কোনো বাস পাওয়া যায় না। মালিকদের একাংশের দাবি, সন্ধ্যার পর চালকরা নাকি নিরাপত্তার অভাবে বাস চালাতে চান না। তার ওপর আবার সপ্তাহের প্রথম দিন সকাল থেকেই সম্পূর্ণ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন যাত্রীরা।
সমাধানের খোঁজে প্রশাসন
কবে কাটবে এই অচলাবস্থা? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো কোনো পক্ষের কাছেই নেই। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে চাকা ঘোরানোর জন্য এবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সাহায্য দাবি করেছেন বাসমালিকরা। প্রশাসন কোনো কড়া পদক্ষেপ করে নাকি যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।
