আজকের দিনেঅন্যান্য

আপনার ফোনের আসক্তিই সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে না তো?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- আমরা প্রায়শই চিন্তা করি যে ছেলেমেয়েরা কেন সারাদিন মোবাইল বা ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকে। কিন্তু আমরা কি কখনও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেছি? আজকের ‘জেন-জ়ি’ বা কিশোর-কিশোরীদেরও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে অনেক ক্ষোভ আছে।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুরা মনে করে যে তাদের বাবা-মা বা অভিভাবকরা সবসময় ফোন বা অন্যান্য ডিভাইসে ব্যস্ত থাকেন, তারা তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। সহজ কথায়, তাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, কোনও প্রয়োজনে তারা তাদের বাবা-মাকে পাশে পাবে কি না।

পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব:

পরিবার একজন মানুষের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুরা মানসিকভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের তাদের পাশে পেতে চায়। কিন্তু, যখন কোনও সন্তান তার বাবা-মার সাথে কিছু বলতে আসে এবং তারা ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই উত্তর দেন (যাকে ‘ফাবিং’ বলা হয়), তখন সন্তানের মনে অবহেলার অনুভূতি তৈরি হয়। মনস্তত্ত্বের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাটেনশন ক্রাইসিস’। ছেলেমেয়েরা তখন ভাবতে শুরু করে যে, তাদের চেয়ে ফোনের নোটিফিকেশনগুলোই তাদের বাবা-মায়ের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক প্রভাব:

এর ফলে সন্তানদের মনে একটি স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার জন্ম নেয়। তারা আর সহজেই বড়দের সাথে তাদের মনের কথা বলতে পারে না এবং নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করে। তাদের মনের মধ্যে ক্ষোভ এবং দূরত্ব তৈরি হতে থাকে, যা ভবিষ্যতে তাদের অন্যান্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

প্রতিকার:

শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন আমরা সঠিক খাবার খাই, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যও ‘ডিজিটাল ডায়েট’ বা স্ক্রিন টাইম কমানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবা-মা এবং সন্তানের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হল একে অপরকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। যখন সন্তান দেখবে যে তার অভিভাবক তার কথা শোনার জন্য ফোনটি পাশে সরিয়ে রাখছেন, তখন তার আত্মবিশ্বাস এবং নিরাপত্তা অনেক বেড়ে যায়।

উপসংহার:

শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ে রাগারাগি করার আগে, বড়দেরও তাদের নিজেদের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। দিনের মধ্যে কিছু সময়, যেমন রাতের খাবারের সময় বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে, ‘নো ফোন জ়োন’ হিসেবে রাখা যেতে পারে। এটি পারিবারিক সম্পর্কের মানসিক দূরত্ব অনেকটাই কমাতে সাহায্য করবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, দামী গ্যাজেট বা ইন্টারনেটের চেয়েও সন্তানের কাছে বাবা-মায়ের একটুখানি মনোযোগ অনেক বেশি মূল্যবান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *