প্রায়শ্চিত্তের বার্তা দিয়ে দল ছাড়লেন প্রাক্তন পুরপিতা বিশ্বরূপ দে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃগার্ডেনরিচের পর এবার তারাতলা। তারাতলা গোডাউন বিপর্যয় কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ১৪ ছুঁতেই শাসক শিবিরে বড়সড় ধস। তারাতলার ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করলেন কলকাতার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরপিতা বিশ্বরূপ দে। শুধু দলত্যাগই নয়, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি অনেক ভুল কাজ করেছেন বলে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তার জন্য ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সভা থেকে ফিরেই বোমা! ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশ্বরূপ
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, দল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের ‘আমরা বেইমান নই’ ব্যানারে আয়োজিত একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বরূপ বাবু। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ডাকা ওই সভা থেকে ফিরেই রাতেই একটি ভিডিও বার্তা জারি করেন তিনি।
সেই ভিডিও বার্তায় বিশ্বরূপ দে স্পষ্ট জানান— তৃণমূলের গাফিলতির কারণেই তারাতলার এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ও জোড়াফুলের সঙ্গে আর নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চাই না। যা করেছি ভুল করেছি। আগামিদিনে হয়তো তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।”
ফিরহাদ হাকিমের সই ও দলত্যাগের সিদ্ধান্ত
বিশ্বরূপ বাবু জানান, তারাতলার ওই ভেঙে পড়া গুদামের নকশা (বিল্ডিং প্ল্যান) অনুমোদনে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং স্বাক্ষর করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য থেকে এই তথ্য জানতে পেরেই তিনি আর নিজেকে এই দলের সঙ্গে যুক্ত রাখতে পারেননি এবং অবিলম্বে তৃণমূল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তারাতলার পাশাপাশি গার্ডেনরিচের বিগত বিপর্যয়ের কথাও মনে করিয়ে দেন এই প্রাক্তন পুরপিতা।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি ও ‘কালী’র গ্রেফতারি
উল্লেখ্য, গতকালই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তারাতলা বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, তারাতলার গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যানে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। শুধু তাই নয়, ফিরহাদের প্রাক্তন ওএসডি কালীর নামও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হত ওর কথায়।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তারাতলা বিপর্যয়ে জড়িয়ে যায় ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘সিট’ (SIT) কালীকে গ্রেফতার করে।
কোণঠাসা শাসক শিবির
তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে যেভাবে একের পর এক তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে এবং তার ওপর বিশ্বরূপ দে-র মতো নেতার এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ও দলত্যাগ, তাতে এই মুহূর্তে কলকাতার রাজনীতিতে চরম অস্বস্তিতে জোড়াপুল শিবির।
