আজকের দিনেবাংলার আয়না

আরও আইনি জালে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত ও আইপ্যাক কর্তা প্রতীক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নদীয়াঃ রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ক্রমশ কোণঠাসা তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগে আইনি জালে জড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর অন্যতম শীর্ষকর্তা প্রতীক জৈন। তাঁদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা ও দায়রা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন নদিয়ার এক তৃণমূল নেতা। একই সঙ্গে মামলা করা হয়েছে আইপ্যাকের এজেন্ট রিঙ্কি মল্লিকের বিরুদ্ধেও। আদালত ইতিমধ্যেই মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং দ্রুতই এর শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

কী এই টিকিট কেলেঙ্কারি?

অভিযোগকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার পলাশিপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাঁর মক্কেলকে। সেই আশ্বাস দিয়ে ওই তৃণমূল নেতার কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়।

কিন্তু দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই দেখা যায়, পলাশিপাড়া কেন্দ্রে টিকিট পেয়েছেন রুকবানুর রহমান। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরেই ওই তৃণমূল নেতা আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত অভিযোগকারী নেতার নাম গোপন রাখা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে, তাই তাঁরা আদালতের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

কাঠগড়ায় আইপ্যাক ও ক্ষোভের আগুন

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মেঠো কর্মীরা। এর মাঝেই আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছিল। অনেক নেতাই আড়ালে-আবডালে অভিযোগ করছিলেন যে, ভোটের টিকিট দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছে এই ভোটকুশলী সংস্থা। এবার কৃষ্ণনগর আদালতের এই মামলা সেই অভিযোগেরই সিলমোহর দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরাসরি আইপ্যাকের অন্যতম প্রধান মুখ প্রতীক জৈনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।

আরও বিপাকে সুমিত রায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের জন্য এই ধাক্কা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও জমি জালিয়াতি এবং মাটি চুরির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে নাম জড়িয়েছে তাঁর। সুমিতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং সিআইডির তরফে তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিসও জারি করা হয়েছে। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি টিকিট বিক্রির নামে ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণার মামলা চাপল তাঁর ঘাড়ে।আইপ্যাকের এজেন্টের হাত ধরে যেভাবে অভিষেকের পিএ এবং আইপ্যাকের শীর্ষকর্তার নাম এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়াল, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এখন আদালত এই মামলায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *