আজকের দিনেতিলোত্তমা

ইলিশ-মাংসের চড়া দামে কপালে ভাঁজ,তবু জামাই আদরে নেই কোনও খামতি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় পারিবারিক উৎসব জামাই ষষ্ঠী। বছরভর অপেক্ষার পর এই একটি দিনেই জামাইকে ঘিরে থাকে বিশেষ আয়োজন, আর সেই কারণেই শ্বশুর-শাশুড়িদের ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। তবে এ বছরের জামাই ষষ্ঠীর আগে বাজারদর দেখে অনেকেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ফল,মাছ, মাংস থেকে মিষ্টি সবকিছুর দামই আকাশছোঁয়া। তবুও প্রিয় জামাইয়ের আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখতে নারাজ শশুর-শাশুড়িরা।

জামাই ষষ্ঠীর ভোজের অন্যতম আকর্ষণ ইলিশ মাছ। বাজারে এখন ইলিশের সরবরাহ শুরু হলেও বড় টাটকা মাছের সংখ্যা এখনও কম। অনেক ক্ষেত্রেই কোল্ড স্টোরেজের মাছ বিক্রি হচ্ছে,ফলে ইলিশের দাম পৌঁছে গিয়েছে কেজি প্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। যদিও সুন্দরবন, হাতানিয়া-দোয়ানিয়া, মুড়িগঙ্গার মত নদীগুলিতে কিছু ছোট আকারের টাটকা ইলিশ ধরা পড়েছে, যা একটু কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবুও জামাইয়ের পাতে ইলিশ পরিবেশন করতে গেলে গৃহস্থের পকেটে চাপ পড়বেই।

শুধু ইলিশ নয়, চিংড়ি, ভেটকি, পমফ্রেট কিংবা খাসির মাংস সবকিছুরই দাম বেড়েছে। জামাই ষষ্ঠীর আগের দিন থেকেই মাংসের দোকানগুলিতে প্রচুর লাইন দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখছেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে জামাই ষষ্ঠী উদযাপনের ধরন। একসময়, বাড়িতে বিশাল আয়োজন করে জামাইকে খাওয়ানোর রীতি থাকলেও এখন অনেক পরিবার রেস্তরাঁমুখী। এখন শহরের নানা রেস্তরাঁয় বিশেষ জামাই ষষ্ঠী থালি সাজিয়ে দেওয়া হয়। ফলে রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর বদলে অনেকেই পরিবার নিয়ে বাইরে গিয়ে এই দিনটি উদযাপন করেন।

জামাই ষষ্ঠী শুধুমাত্র একটি ভোজন উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্য ও আবেগ। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনা করে বিবাহিত মেয়ে ও জামাইকে নিমন্ত্রণ করার প্রথা বহু প্রাচীন। এই দিনে পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা উৎসবটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।ফলার দিয়ে শুরু করে পোলাও, মাংস, মাছ, পায়েস, মিষ্টি দই এবং নানা ধরনের মিষ্টান্ন জমজমাট ভোজের আয়োজন থাকে। ভোজনরসিক জামাইদের কাছে তাই এই দিনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন থিমের বিশেষ মিষ্টি বাজারে এসেছে। বাজারের হিসাব যতই কঠিন হোক, আদরের জামাইকে খুশি করার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *