নাবালিকার সিঁথি রাঙিয়ে একসঙ্গে আত্মঘাতী নাবালক-নাবালিকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পূর্ব বর্ধমান: বয়সকে তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছিল প্রেম। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিবার। আর সেই বাধার পরিণতি হলো অত্যন্ত ভয়ানক। ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে নিতে প্রেমিকার সিঁথি সিঁদুরে রাঙিয়ে, একই কাপড়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলো এক নাবালক ও নাবালিকা। পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার কুঁদো গ্রামের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
একই পাড়ায় বাড়ি, বছরখানেকের প্রেম
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম বিক্রম মাজি (১৬) এবং নন্দিনী মাজি (১৪)। দুজনেই কুঁদো গ্রামের একই পাড়ার বাসিন্দা। নন্দিনী শিমুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে, অভাবের সংসারের হাল ধরতে বছর দুয়েক আগে পড়াশোনা ছেড়ে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজে যোগ দিয়েছিল বিক্রম। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর বিক্রমের মা তিন ছেলেকে নিয়ে কুঁদো গ্রামে বাপের বাড়িতে থাকতেন। বিক্রম ছিল ভাইদের মধ্যে বড়। অন্য দিকে, নন্দিনীর বাবা তাপস মাজি পেশায় জনমজুর।
বছরখানেক আগে বিক্রম ও নন্দিনীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি দুই পরিবারের নজরে আসতেই তাঁরা এবং প্রতিবেশীরা দুজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কারণ, আইনত দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু কোনো বাঁধাই মানতে রাজি ছিল না এই যুগল।
গভীর রাতে অভিসার, ভোরে মর্মান্তিক পরিণতি
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে আর পাঁচটা দিনের মতোই দুজনে যে যার নিজের বাড়িতে শুয়ে পড়েছিল। কিন্তু গভীর রাতে বাড়ির সকলের অলক্ষ্যে নন্দিনী চলে যায় বিক্রমের ঘরে। রোজ ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেত বিক্রম। শুক্রবার ভোরেও বিক্রমের মা তাপসী মাজি ছেলেকে ঘুম থেকে তুলতে যান। দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়ে এবং ডাক দিয়েও ছেলের কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। এরপর সন্দেহ হওয়ায় জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারতেই মায়ের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। তিনি দেখতে পান, ঘরের ভেতর ঝুলছে ছেলের দেহ।
সিঁথিতে সিঁদুর, একই কাপড়ে ঝুলন্ত দেহ
মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায় এক মর্মান্তিক দৃশ্য। একই কাপড়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে বিক্রম ও নন্দিনী। মৃতদেহের দিকে তাকাতেই স্তম্ভিত হয়ে যান গ্রামবাসীরা— দেখা যায়, নাবালিকা নন্দিনীর সিঁথি রাঙানো রয়েছে তাজা লাল সিঁদুরে। মৃত্যুর ঠিক আগেই হয়তো ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দুটি তরতাজা প্রাণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে দুই পরিবার। গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
