আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

Mamata-CID : এবার তৃণমূল সুপ্রিমোর বোনের ফ্ল্যাটে হানা তদন্তকারীদের !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,​কলকাতা: ফের খবরের শিরোনামে কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় আবারও হাজির হলেন সিআইডি আধিকারিকরা। তবে এবার আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে নয়, তাঁর পাড়ারই অন্য একটি ফ্ল্যাটে পৌঁছন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক আত্মীয় তথা সম্পর্কে তাঁর এক বোন থাকেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন মামলার প্রেক্ষিতে সিআইডি আজ সেখানে গেল, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

​কী ঘটেছিল আজ দুপুরে?

​আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে এসে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। স্বভাবতই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। তবে তদন্তকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে না গিয়ে সটান চলে যান ২৯/ডি নম্বরের একটি ফ্ল্যাটে।
​ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা। প্রতিবেশীদের সূত্রেই জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোন থাকেন এবং সিআইডি কর্তারা তাঁর ফ্ল্যাটেই গিয়েছেন।

​পুরনো মামলার সূত্র নাকি নতুন কিছু?

​এর আগে বিধায়কদের সই জাল করার মামলায় একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে গিয়েছে সিআইডি। এমনকী সম্প্রতি কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। সই জাল মামলা এবং বিতর্কিত ‘ডিজে মন্তব্য’ ইস্যুতে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে সিআইডি।
​তবে আজকের এই হানা সেই পুরনো মামলার সূত্র ধরে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনও তদন্তের কারণে—তা নিয়ে সিআইডির তরফে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
​শুরু রাজনৈতিক তরজা
​এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথারীতি শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এই ঘটনা নতুন করে পারদ চড়িয়েছে।

​তৃণমূলের অভিযোগ: শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেনস্থা করতেই ভোটের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

​বিজেপির পাল্টা দাবি: তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা তাপস রায়। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রাই উলটে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করেছিলেন।”
​তদন্তের জল এবার কোন দিকে গড়ায় এবং সিআইডির এই অভিযানের নেপথ্যে আসল কারণ কী, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *