আজকের দিনেবাংলার আয়না

জন্মদাত্রী মাকে কুড়ুল দিয়ে গলা কেটে খুন ছেলের!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কোলাঘাট: সাতসকালে খোদ জন্মদাত্রী মাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু হত্যাই নয়, ধারালো কুড়ুল দিয়ে মায়ের মাথা ধড় থেকে আলাদা করে তা বস্তায় পুরে পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে এল অভিযুক্ত। মঙ্গলবার ভোরে এই হাড়হিম করা ও রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট থানার কাঁউরচণ্ডি গ্রামে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জেরে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
​মৃত বৃদ্ধার নাম ভারতী চক্রবর্তী (৬৫)। ঘটনার পরেই ঘাতক ছেলে বাসুদেব চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে কোলাঘাট থানার পুলিশ।

ভোররাতে ঘরেই নৃশংস তাণ্ডব
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁয়ষট্টির ভারতীদেবী তাঁর ছেলে বাসুদেবের সঙ্গেই ওই বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক চারটে নাগাদ আচমকাই মায়ের ওপর চড়াও হয় বাসুদেব। ঘরে থাকা ধারালো কুড়ুল দিয়ে সে নিজের মাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। কুড়ুলের কোপে মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর, দেহ থেকে মাথাটি সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয় সে।
​এরপর সেই কাটা মাথাটি একটি বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাড়ি থেকে বের হয় বাসুদেব। বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি পুকুরের জলে বস্তাবন্দি মাথাটি ফেলে দিয়ে সে ফের ঘরে ফিরে আসে। ঘরের মেঝেতে তখন পড়েছিল বৃদ্ধার মুণ্ডুহীন রক্তাক্ত দেহ, আর চারিদিকে জমে ছিল চাপচাপ রক্ত।

গ্রেপ্তার ছেলে
​ভোর একটু বাড়তেই এই নৃশংস ঘটনার কথা প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায় গোটা গ্রামে। খবর দেওয়া হয় কোলাঘাট থানায়। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে দ্রুত বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তদন্তকারীরা। ঘর থেকে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত ছেলে বাসুদেবকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
​পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে ঘাতক পুত্র। কুড়ুল দিয়ে কুপিয়েই যে সে মাকে খুন করেছে, তা অকপটে জানিয়েছে বাসুদেব। এরপর পুলিশের একটি দল স্থানীয় ওই পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে বৃদ্ধার কাটা মাথাটি উদ্ধার করে। দেহ ও কাটা মাথা ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুনের নেপথ্যে কি মানসিক রোগ?
​৬৫ বছরের বৃদ্ধাকে এভাবে খুন করার কারণ কী? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং প্রতিবেশীদের দাবি, ঘাতক বাসুদেব দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল। পুলিশ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিবাদ বা মোটিভ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ধৃতের মানসিক অবস্থার দিকটিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *