আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

ত্রাণের ২৫০ কোটির দুর্নীতি, অভিষেকের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় এফআইআর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:- আমফানের ত্রাণ তহবিলের ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল বিজেপি। শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর দাবি, অভিষেকের নির্দেশেই এই দুর্নীতি হয়েছে। সিট গঠন করে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

২০২০ সালের ২০ মে বাংলা-ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আমফান। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। কেন্দ্র ত্রাণ পাঠালেও সেই টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ববির অভিযোগ, বিষ্ণুপুর ১ ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতির জন্য ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। ঘরের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার, কিন্তু কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে ৩৪ হাজার। বিষ্ণুপুর ২ ব্লকে ৩২ কোটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি। একই ফোন নম্বরে ৬-৭ জন, একই অ্যাকাউন্টে ৭-৮ জন এবং একই পরিবারে ১১-১২ জন করে টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে ববি জানান, ডায়মন্ড হারবারের প্রতিটি থানায় এফআইআর করা হবে। জেলা পুলিশ কমিশনারের কাছে সিট গঠন করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তৎকালীন বিডিও, প্রধান, উপপ্রধান, জেলাপরিষদের সভাপতি-সহ প্রশাসনিক কর্তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের টাকা তছরূপের অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভার সই জাল এবং ডিজে মন্তব্য মামলায় সিআইডি তদন্তের মুখে রয়েছেন তিনি। সই জাল মামলায় বৃহস্পতিবার ভবানীভবনে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর রবিবার ফের হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। ডিজে মন্তব্য মামলায় ১৬ জুন তলব করেছে সিআইডি। এর মাঝে ১৫ জুন ইডি দপ্তরে হাজিরার কথা রয়েছে অভিষেকের।

একের পর এক মামলায় জেরবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার আমফান ত্রাণ দুর্নীতিতে বিষ্ণুপুর থানায় নাম জড়ানোয় আরও চাপে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এ নিয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *