রইল বাকি ৯: জল্পনা সত্যি করে সাংসদ পদে ইতি টানলেন কোয়েল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা এবং বিধানসভার পর এবার বড়সড় ধস নামল তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদীয় দলেও। গত কয়েক দিনের জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
বৃহস্পতিবার সকালেই আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল নেতা প্রকাশ চিক বরাইক রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন। তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সামনে আসে কোয়েলের পদত্যাগের খবর। সূত্রের খবর, কোয়েল আগেই ই-মেলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ আসায় বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
রাজ্যসভায় ‘একে একে নিভিছে দেউটি’
রাজ্যসভায় একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একজোট করা কঠিন হওয়ায়, বিদ্রোহীরা ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। দল ছাড়ার বদলে তাঁরা একে একে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।
-
সোম থেকে বৃহস্পতিবার: গত সোমবার প্রথম ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। বুধবার পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। আর বৃহস্পতিবার ‘লক্ষ্মীবারে’ একসঙ্গে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক।
-
কমে গেল শক্তি: এর আগে বাংলার ১৬টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে ১৩টি ছিল তৃণমূলের। এই চারজনের ইস্তফার পর তা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়াল ৯-এ।
-
উপনির্বাচনে বড় ধাক্কার আশঙ্কা: সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে আরও একজন এবং আগামী সপ্তাহে আরও ২-৩ জন সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই আসনগুলিতে উপনির্বাচন হলে সবকটিতেই বিজেপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বিধানসভা ও লোকসভাতেও বেনজির ভাঙন!
শুধু রাজ্যসভাই নয়, সংসদের নিম্নকক্ষ এবং রাজ্য বিধানসভাতেও তৃণমূলের ভাঙন এখন চরম পর্যায়ে:
-
বিধানসভায় ৬৪ বিধায়কের নতুন ব্লক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের একটি বড় অংশ মমতা-অভিষেকের নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। এই ব্লকে বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
-
লোকসভায় এনডিএ-র দিকে ঝোঁক: লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ একজোট হয়ে কেন্দ্রে এনডিএ জোটে শামিল হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।
মাত্র দুই মাসেই মোহভঙ্গ!
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূল যখন রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে, তখন রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি কোয়েল মল্লিকের নাম থাকাটা ছিল সবচেয়ে বড় চমক। কারণ কোয়েলকে কখনোই সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি।
গত ৬ এপ্রিল সপরিবারে দিল্লি গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল। সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, দেশের ও মানুষের সেবা করার চেয়ে মহৎ কাজ আর হতে পারে না। কিন্তু দলের বিপর্যয়ের পর মাত্র দুই মাসের মাথাতেই ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন এই তারকা অভিনেত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক হেভিওয়েট নেতার ইস্তফা এবং দলবদল প্রমাণ করছে যে, ২০২৬ সালের এই আবহে তৃণমূলের সংসদীয় অস্তিত্ব এখন এক গভীর সংকটের মুখোমুখি।
