সাবধান! আপনার সন্তান কি দিনভর মোবাইল নিয়ে ঝুঁকে বসে? বিপজ্জনক হতে পারে ভবিষ্যত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক: বাচ্চদের হাতে ফোন নেই এমন সংখ্যা বোধহয় নেই বললেই চলে। সন্তান একটু বড় হতে না হতেই খাওয়ার সময়,কোনো কিছু থেকে ভোলানোর, বা কারোর বাড়ির গিয়ে যাতে সে দুষ্টুমি না করে তার জন্য বেশিরভাগ অভিভাবকরাই তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু আপনার এই নিশ্চিন্তের কারণ তাদের ভবিষ্যত নষ্ট করছে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিন টাইম বা গ্যাজেট ব্যবহারের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। দিনভর মোবাইল গেম, ওয়েব সিরিজ, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ওটিটি-র পর্দায় চোখ রাখতে গিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময়টাই তারা ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের সামনে কাটাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসকে নিরীহ মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এটি বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
‘টেক্সট নেক সিনড্রোম’ কী?
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে বর্তমানে যে নতুন শারীরিক সমস্যাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলে ‘টেক্সট নেক সিনড্রোম’ । দীর্ঘ সময় মাথা নীচু করে মোবাইল বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ঘাড় ও মেরুদণ্ডে যে তীব্র চাপ তৈরি হয়, তা থেকেই এই সমস্যার উৎপত্তি।
ওজনের রহস্য: সাধারণ সোজা অবস্থায় মানুষের মাথার ওজন থাকে প্রায় ১০ থেকে ১২ পাউন্ড। কিন্তু ফোন দেখার জন্য মাথা যত সামনের দিকে ঝুঁকতে থাকে, ঘাড়ের ওপর চাপ তত গুণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ ডিগ্রি কোণে মাথা ঝুঁকে ফোন ব্যবহার করলে ঘাড়ের ওপর প্রায় ৬০ পাউন্ড (প্রায় ২৭ কেজি) পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে, যা একটি প্রাপ্তবয়স্ক হরিণের ওজনের সমান!
কী কী শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে?
যেহেতু কিশোর-কিশোরীদের শরীর এখনও বৃদ্ধি ও বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে, তাই তারাই এই সমস্যার সবচেয়ে বড় শিকার। বর্তমানে বহু কম বয়সী ছেলে-মেয়ে নীচের সমস্যাগুলি নিয়ে চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হচ্ছে:
-
মেরুদণ্ডের গঠন বিকৃতি: দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে বসে স্ক্রিন দেখার ফলে পেশির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং মেরুদণ্ডের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন (ভুল দেহভঙ্গি) দেখা দিচ্ছে।
-
তীব্র ব্যথা: ঘাড়, পিঠ ও কাঁধে অনবরত ব্যথা এবং কাঁধ সামনের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার সমস্যা বাড়ছে।
-
অন্যান্য উপসর্গ: ভুল দেহভঙ্গির কারণে ঘন ঘন মাথাব্যথা, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, মনোযোগের অভাব এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
