আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

Shawkat-Abhishek : এনআইএ হেফাজতে প্রথম রাত অনাহারে-বিনিদ্র কাটালেন শওকত, ‘অভিষেকই ফাঁসিয়েছে’, বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ভাঙড়ের বোমাবাজি ও মৃত্যুর ঘটনায় এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার প্রথম রাত কাটল কার্যত অনাহারে ও বিনিদ্র অবস্থায়। গ্রেপ্তারির পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। শওকতকে ভাঙড়ে প্রার্থী করে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ পরিবারের।

শুক্রবার রাতে ভাঙড়ের বোমাবাজি ও মৃত্যুর ঘটনায় এনআইএ গ্রেপ্তার করে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। শনিবার তাঁকে এনআইএ আদালতে তোলা হলে আদালত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। আপাতত নিউটাউনের এনআইএ হেফাজতেই রাখা হয়েছে তাঁকে।

সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারির পর থেকে তেমন কথা বলছেন না শওকত। হেফাজতের প্রথম রাত মোটেও সুখকর হয়নি। যে সেলে তাঁকে রাখা হয়েছে, তা পছন্দ হয়নি তৃণমূল নেতার। রাতে কেবল একটি রুটি ও সামান্য তরকারি খেয়েছেন। প্রায় গোটা রাতটাই সেলের মধ্যে পায়চারি করেছেন। কার্যত দু’চোখের পাতা এক করেননি। ভোররাতে সামান্য ঘুমিয়েছেন বলে খবর। রবিবার সকালে তাঁকে চা-বিস্কুট দেওয়া হয়।

শনিবার আদালতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল শওকতের। তখন মৃদুস্বরে শুধু বলেন, “ভালো আছি।” শুক্রবার রাতের পর থেকে টানা জেরা ও আদালতে যাতায়াতের ধকলে তৃণমূল নেতার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

এদিকে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শওকতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই শওকতকে ফাঁসিয়েছেন। পরিবারের দাবি, শওকত ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক ছিলেন। সেখানে টিকিট না দিয়ে তাঁকে ভাঙড়ে প্রার্থী করা হয়। শওকত অনুরোধ করলেও অভিষেক সেই কথা শোনেননি। ভাঙড়ের বোমাবাজি, গণ্ডগোলে শওকত মোল্লার নাম জড়িয়ে পড়ে। এর জন্যই সরাসরি অভিষেককে দায়ী করছে পরিবার।

ভাঙড়-কাণ্ডে গ্রেপ্তারির পর থেকেই দলে ও বাইরে শওকত মোল্লাকে নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। একদিকে এনআইএ হেফাজতে কাটছে তাঁর বিনিদ্র রাত, অন্যদিকে পরিবারের তোলা অভিযোগে অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরের অন্দরেও। তদন্ত কোন দিকে যায় এবং দল এই অভিযোগ নিয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *