আজকের দিনেবাংলার আয়না

Old Age Allowance : বার্ধক্য ভাতায় বড় গরমিল! ৫৩ বছরের ব্যক্তি পাচ্ছেন ৮৬ বছরের প্রবীণের সুবিধা তা নিয়ে বিরাট চাঞ্চল্য !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি:- দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের এক বাসিন্দার নামে অভিযোগ। প্রশাসনিক নথিতে গরমিলের কারণে ৫৩ বছর বয়সের এক ব্যক্তি গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে, যদিও তাঁর দাবি অনুযায়ী তাঁর প্রকৃত বয়স সরকারি নথিতে উল্লেখ বয়সের তুলনায় অনেক কম। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম শ্রীধরপুর – সর্দারপাড়া এলাকায়।

পাথরপ্রতিমার দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা পাঁচু গোপাল মাঝি ও তার বাবা নিরাপদ মাঝি। পাঁচু গোপাল মাঝির আধার ও ভোটার কার্ডে বর্তমানে বয়স দেখানো হয়েছে ৮৬ বছর। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, বাস্তবে তাঁর বয়স ৫০ থেকে ৫৩ বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি বার্ধক্য ভাতার টাকা জমা পড়ছে। প্রথমদিকে তিনি জানতেনই না এটি কোন প্রকল্পের অর্থ। পরে জানতে পারেন, এটি বার্ধক্য ভাতার টাকা।

পাঁচু গোপাল মাঝির দাবি, তিনি কখনও বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেননি। বরং বহুবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে নিজের বয়স সংশোধনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও সেই ভুল এখনও সংশোধন করা যায়নি। ফলে প্রশাসনিক রেকর্ডে তিনি প্রবীণ নাগরিক হিসেবেই থেকে গিয়েছেন।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই সরকারি প্রকল্পগুলির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণত বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখার পরেই অনুমোদন দেওয়া হয়। তাহলে একজন ব্যক্তির প্রকৃত বয়সের সঙ্গে এত বড় গরমিল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বছরের পর বছর এই সুবিধা চালু ছিল, তা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রবীন্দ্রনাথ বেরা (কাশীনাথ বেরা)- র দাবি, বার্ধক্য ভাতা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে হয় না। ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত তথ্য যাচাই করে এই ধরনের সুবিধা মঞ্জুর করা হয়।
ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল বামফ্রন্ট নেতৃত্বের অভিযোগ, শুধুমাত্র এই একটি ঘটনা নয়, গোটা এলাকাজুড়ে সরকারি নথি ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অসংগতি খুঁজলে আরও অনেক উদাহরণ সামনে আসতে পারে। তাঁদের দাবি, কিছু অসাধু চক্র বা ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি সুবিধা দেওয়ার কাজেও যুক্ত আছে।

তবে এই ঘটনায় প্রশাসনিক ভুলের খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দিতে হয়। একদিকে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা অনেক সময় সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হন, অন্যদিকে ভুল তথ্যের কারণে অযোগ্য ব্যক্তির নামে সুবিধা পৌঁছে যায়। ফলে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *