Howrah : হাওড়ায় বিশ্বমানের বাস-ট্যাক্সি টার্মিনাল ও নতুন মেট্রো রুটের প্রস্তাব, রেলমন্ত্রীর কাছে দরবার উমেশ রাইয়ের !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- হাওড়া স্টেশন চত্বরকে দেশের অন্যতম আধুনিক ও যাত্রিবান্ধব পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দিলেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, হাওড়া জেলার পক্ষ থেকে রেলমন্ত্রীর কাছে লিখিত ভাবে দাবি জানানো হয়েছে বিশ্বমানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল নির্মাণ এবং মেট্রো রেল সম্প্রসারণের জন্য।
বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই বলেন, ‘হাওড়া স্টেশন পূর্ব ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানে রেলপথ, সড়কপথ এবং জলপথ— তিন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার মিলন ঘটেছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। কিন্তু এত বেশি যাত্রীর চাপের তুলনায় আধুনিক বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনালের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে।’
তিনি জানান, স্টেশন চত্বরের পুনর্বিন্যাস করে এমন একটি অত্যাধুনিক বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে যাত্রীরা সহজেই বিভিন্ন রুটের বাস, ট্যাক্সি এবং অন্যান্য গণপরিবহণের পরিষেবা পাবেন। টার্মিনালে থাকবে উন্নত যাত্রী প্রতীক্ষালয়, ডিজিটাল তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পিক-আপ ও ড্রপ-অফ জ়োন এবং সুসংগঠিত ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা।
পার্কিং সঙ্কট নিয়ে উমেশ রাইয়ের বক্তব্য, বর্তমানে হাওড়া স্টেশন চত্বরে যানজট একটি বড় সমস্যা। আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে উঠলে ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্যাক্সি এবং অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়ির চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে। পাশাপাশি স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এবং ফেরিঘাটের মধ্যে সহজ সংযোগ গড়ে তোলার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাওড়া স্টেশনের উপরে চাপ কমাতে শালিমার ও সাঁতরাগাছি স্টেশনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই রেলমন্ত্রীর কাছে বি গার্ডেন থেকে বালি পর্যন্ত নতুন মেট্রো রেল করিডর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই করিডর শালিমার ও হাওড়া ময়দান হয়ে উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাকে সংযুক্ত করবে। এছাড়াও হাওড়া ময়দান থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
উমেশ রাই দাবি করেন, রেলমন্ত্রী প্রস্তাবগুলির প্রতি মৌখিক ভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলেনি, তবে বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদী। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাওড়া শহরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মেট্রো নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে এবং যাত্রী ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পরিবহণ চাহিদাও মিটবে বলে মনে করছেন তিনি।
