ইন্ডাস্ট্রিতে আর ‘নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’ নয়! ক্ষমতার পরিবর্তনে আশাবাদী দেব
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: তিনি রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ, অথচ রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে বরাবরই বজায় রেখেছেন ‘সৌজন্যের সংস্কৃতি’। পদ্মশিবিরের তারকা রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা মিঠুন চক্রবর্তীকে নিজের ছবিতে কাস্ট করে অতীতে কম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি তাঁকে। তবু নিজের শর্তে অটল থেকেছেন ঘাটালের তিনবারের হ্যাটট্রিক বিজয়ী সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব। তবে বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল এবং বিজেপি সরকার গঠনের পর এবার টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যত ‘বোমা’ ফাটালেন টলিউডের এই সুপারস্টার-প্রযোজক।
শুক্রবার রাতে ঋত্বিক চক্রবর্তী ও সঞ্জয় মিশ্র অভিনীত ‘ফেরা’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে হাজির হয়েছিলেন দেব। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। টলিউডের অন্দরে ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে যখন তুমুল জল্পনা, ঠিক তখনই দেব স্পষ্ট জানান— বিদায়ী তৃণমূল সরকারের আমলে টলিউড নিয়ে তাঁকে চরম ভুগতে হয়েছে!
“নতুন সরকারকে অন্তত এক বছর সময় দেওয়া উচিত”
বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার আসার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ এবং টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্য কার্ড নিয়ে দেবের কাছে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি অত্যন্ত পরিণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতো জবাব দেন। দেব বলেন:
“নতুন সরকারকে একটু সময় দেওয়া উচিত। কারণ এটা একটা সম্পূর্ণ নতুন সিস্টেম। তাদের মন্ত্রিসভাও এখনও পুরোপুরি ঘোষণা হয়নি। তবে আমার বিশ্বাস, এই সরকার সমস্ত দিক দিয়ে ভালো কাজ করবে। নতুন সরকারের প্রতি আমার এবং গোটা বাংলার মানুষের শুভেচ্ছা রয়েছে। তাই সবাইকে বলব, একটু ধৈর্য ধরুন। সরকার চালানো এত সহজ নয় যে মাত্র এক মাসের মধ্যেই সব রেজাল্ট দেখতে পাব। কীভাবে কাজ হচ্ছে, তার ফল দেখার জন্য এই সরকারকেও অন্তত এক বছর সময় দেওয়া উচিত।”
টলিউড নিয়ে কেন বিস্ফোরক দেব?
সংযতভাবে নতুন প্রশাসনের প্রশংসা করার পরপরই টলিউডের অন্দরমহল নিয়ে আসল বোমাটি ফাটান দেব। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগের সরকারের (তৃণমূল) থেকে এই নতুন সরকার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনেক ভালো ও সুস্থ পরিস্থিতি নিয়ে আসবে। এর কারণ হিসেবে সুপারস্টারের অকপট সংযোজন, “কারণ আগের সরকারের আমলে আমি যেভাবে ভুগেছি, সেটা এবার অন্তত হবে না বলেই আশা করছি।”
সাংসদের এই একটি বাক্যেই টলিউডের অন্দরে গত কয়েক বছর ধরে চলা ‘অঘোষিত নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’র চাপা ক্ষোভ যেন প্রকাশ্যে চলে এলো। কার সঙ্গে কাজ করা যাবে, কার সঙ্গে যাবে না—এই নিয়ে টলিউডে যে অলিখিত রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছিল, দেবের মন্তব্য তারই প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দুর প্রশংসা ও ঘাটালে সহযোগিতার বার্তা
দিনকয়েক আগেই এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন দেব। তাঁরা দুজনেই মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। মেদিনীপুরের জয়জয়কার নিয়ে হাসিমুখে দেব বলেন, “ভাল তো! মেদিনীপুর সব সময়ে এগিয়ে ছিল, আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।” তৃণমূলের রাজ্যপাট ধসে যাওয়ার পর দেব আগেই জানিয়েছিলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে তিনি নতুন সরকারের পাশে থাকবেন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে ইন্ডাস্ট্রিতে যেন আর কেউ নিষিদ্ধ না হন, সকলে যেন সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন, নতুন সরকারের কাছে সেই আর্জিও জানিয়েছিলেন দেব। এবার সেবিষয়েই আশাবাদী তৃণমূলের তারকা সাংসদ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন যে, স্টুডিও পাড়ায় আর রাজনীতির ছায়া পড়তে দেওয়া হবে না। দেবও চান, টলিউড যেন আর কারও জন্য ‘নিষিদ্ধ’ না হয়। দীর্ঘ ১২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যিনি কখনও বিরোধীদের প্রতি কটু কথা বলেননি, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেও সেই দেব প্রতিহিংসার ভাষা না উড়িয়ে পরিবর্তনের নতুন আশার আলো দেখছেন।
