আজকের দিনেভারত

সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: ভোটার তালিকার ‘এস আই আর’ বৈধ ঘোষণা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR)-কে সম্পূর্ণ বৈধ ও সংবিধানসম্মত বলে ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের (ECI) এই পদক্ষেপ সংবিধানের নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মূল নীতিকেই আরও শক্তিশালী করে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।

তৃণমূল কংগ্রেসসহ দেশের একাধিক বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনি’ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। বিরোধীদের মূল আপত্তি ছিল পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ঠিক আগে এবং বিহারে গত বছর জুন মাসে তড়িঘড়ি এই এসআইআর পদ্ধতি শুরু করা নিয়ে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ের পর দেশজুড়ে বিরোধীদের সব অভিযোগ খারিজ হয়ে গেল।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:

  • কমিশনের পূর্ণ অধিকার: সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকা সংশোধনের যে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, ‘এসআইআর’ তার আওতাভুক্ত।

  • আইনসম্মত প্রক্রিয়া: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত সাধারণ পদ্ধতিকে বাতিল বা বদলে দেওয়া হচ্ছে না। আইন নিজেই কমিশনকে যেকোনো সময় ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা করার স্বাধীনতা দিয়েছে।

  • স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। ভুয়ো বা অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত।

  • নথি যাচাইকরণ: ভোটার তালিকায় নাম থাকা নাগরিকত্বের প্রাথমিক স্বীকৃতি হলেও, প্রয়োজনে আইন মেনে তা যাচাই করায় কোনো অন্যায় নেই। এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট নথি চাওয়া বা নথির ধরন নির্ধারণ করার পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বার্তা: “সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে আলাদা বলেই শুধুমাত্র এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন পদ্ধতিকে বেআইনি বলা যায় না। দেশজুড়ে যেভাবে এসআইআরের কাজ চলছিল, তেমনই চলবে।”

বিতর্কের অবসান:

বিহারে এই বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এর ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এর একমাত্র উদ্দেশ্য। আজকের রায়ের পর ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইনি লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনের এই জয় দেশজুড়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালানোর পথকে আরও মসৃণ ও বিতর্কহীন করে তুলল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *