আজকের দিনেগ্রীন রুম

দিল্লির দরবারে ধুতি-পাঞ্জাবিতে ‘বুম্বাদা’, রাষ্ট্রপতি ভবনে সম্মানিত প্রসেনজিৎ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,দিল্লি:- রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেছিল ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার প্রদানের চাঁদের হাট। ২৫ মে, সোমবার এক জমকালো ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি’তে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। চলতি বছরে ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের ঘোষণা করা হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী পুরস্কার। শিল্প, সাহিত্য, সমাজসেবা ও বিজ্ঞানের মতো নানা ক্ষেত্রের নক্ষত্রদের পাশাপাশি বিনোদন জগতের একাধিক কিংবদন্তি এদিন সম্মানিত হলেন।

এবারের অনুষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গ তথা বাঙালি সংস্কৃতির জন্য ছিল অত্যন্ত গর্বের। বাংলা সিনেমাকে চার দশক ধরে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হলেন টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পুরস্কার গ্রহণের সময় খাঁটি বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে ডিজাইনার অভিষেক রায়ের তৈরি বিশেষ ধুতি-পাঞ্জাবিতে সেজেছিলেন ‘বুম্বাদা’। থিয়েটারের পুরনো রেলিং মোটিফের হ্যান্ড এমব্রয়ডারি করা পোশাকে প্রসেনজিতের রূপ ছিল দেখার মতো।

ধুতি-পাঞ্জাবিতে খাঁটি বাঙালি লুকে পদ্মশ্রী নিলেন ‘বুম্বাদা’

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনে সাড়ে তিনশোর বেশি ছবিতে কাজ করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা সিনেমার দুঃসময়ে অভিভাবকের মতো ইন্ডাস্ট্রিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ এবার ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হলেন তিনি। এ দিন রাষ্ট্রপতি ভবনে ডিজাইনার অভিষেক রায়ের তৈরি খাঁটি বাঙালি ধুতি-পাঞ্জাবিতে হাজির হয়েছিলেন টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’। থিয়েটারের পুরনো রেলিংয়ের মোটিফ থেকে অনুপ্রাণিত এই পোশাকে প্রসেনজিৎকে চমৎকার লাগছিল। পুরস্কার পেয়ে আপ্লুত প্রসেনজিৎ ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের কাছে এই সম্মান একটা কারণেই অত্যন্ত গর্বের, তা হল আমি শুধুমাত্র বাংলা সিনেমায় কাজ করে এই সম্মান পেয়েছি। এই মুহূর্তে আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে, যিনি বাস্তবে না থাকলেও সবসময় আমার সাথে থাকেন।” উল্লেখ্য, প্রসেনজিৎ ছাড়াও এবার আরও ১১ জন বাঙালি পদ্ম সম্মান পেয়েছেন।
১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ দিয়ে শুরু করে ‘অমরসঙ্গী’র হাত ধরে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ— প্রায় সাড়ে তিনশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বাংলা ছবির দুঃসময়ে হাল ধরা এই অভিনেতা পুরস্কারের দিনে স্মরণ করেছেন তাঁর প্রয়াত মা ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের। উল্লেখ্য, প্রসেনজিৎ ছাড়াও এবারের পদ্ম সম্মানের তালিকায় রয়েছেন আরও ১১ জন বাঙালি কৃতী।

ধর্মেন্দ্রর মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ গ্রহণ করলেন হেমা মালিনী

এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল ভারতীয় সিনেমার ‘হিম্যান’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’-এ ভূষিত করা। ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’র মতো কালজয়ী ছবির এই মহানায়কের হয়ে সম্মান গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী হেমা মালিনী।

অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে গর্বিত হেমা মালিনী তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। আমাদের মেয়ে অহনা আমার সঙ্গেই দিল্লিতে এসেছে। পুরো পরিবারই আজ আনন্দিত। সানি, ববি— সবাই এই খবর জানে এবং আমাদের সকলের জন্যই এটা অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।”

সব মিলিয়ে, দিল্লির দরবারে এবারের পদ্ম পুরস্কার প্রদানের মঞ্চ শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকল না, তা হয়ে উঠল দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল উদযাপন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *