আজকের দিনেবাংলার আয়না

১৩ বছর পর অবশেষে হাওড়ায় পুরভোট ডিসেম্বরেই, দুর্নীতির তদন্তে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, হাওড়া: দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে ভোট হতে চলেছে হাওড়া ও বালি পুরসভায়। আজ, বৃহস্পতিবার হাওড়ায় এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া পুরনিগম এবং বালি পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার মেগা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু ভোট প্রক্রিয়াই নয়, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন করার কথাও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিগত পুরবোর্ডের আমলে হওয়া একাধিক দুর্নীতির তদন্তে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আট বছরের ‘প্রশাসক রাজের’ অবসান

হাওড়া পুরসভার গণতান্ত্রিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানে শেষবার পুরভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে সেই নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কোনো নতুন ভোট হয়নি। ফলত, পুরপ্রশাসক বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসিয়েই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল নাগরিক পরিষেবা। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমেছিল, উঠেছিল ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ।

আজ হাওড়ায় দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:“আমরা রাজনৈতিক দল, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, পুরসভায় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু ও প্রকৃত নাগরিক পরিষেবার স্বাদ মানুষ পেতে পারেন না। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালিতে পুরভোট হবে।”

শুরু হচ্ছে ডিলিমিটেশন, পুরমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দ্রুত ওয়ার্ডগুলির ডিলিমিটেশন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। এই বিষয়ে রূপরেখা তৈরি করতে আজই দুর্গাপুরে উনয়ন বৈঠকে থাকা পুরমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলবেন। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে বছরের শেষেই ব্যালট বক্সে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন হাওড়া ও বালির বাসিন্দারা।

নো ওয়ার্ক নো পে! ভুয়ো কর্মীদের রুখতে তদন্ত কমিটি

নির্বাচনের ঘোষণার পাশাপাশি হাওড়া পুরসভার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা দুর্নীতি নিয়ে এদিন বেনজিরভাবে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বেআইনি বহুতল নির্মাণ, জলাশয় বা পুকুর বুজিয়ে ফেলা-সহ পুরসভার অভ্যন্তরে চলা একাধিক আর্থিক নয়ছয়ের তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:“হাওড়া পুরসভায় বর্তমানে প্রায় ১৭০০ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে যে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন কর্মী কোনো কাজ না করেই মাসের শেষে নিয়মিত সরকারি বেতন তুলে নিচ্ছেন! এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই গোটা নিয়োগ ও বেতন দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর হাওড়া ও বালির এই পুরভোট ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক সংস্কারই নয়, বরং আসন্ন দিনগুলিতে পুর এলাকার রাশ নিজেদের হাতে রাখার জন্য গেরুয়া শিবিরের এক বড়সড় রাজনৈতিক চাল। এখন দেখার, দীর্ঘ ১৩ বছর পর হাওড়ার ভোট ময়দানে আমজনতা কাকে বেছে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *