আজকের দিনেবাংলার আয়না

WB CM : হাওড়ায় ‘জিরো টলারেন্স’: রাজনৈতিক নিয়োগে ফাঁকিবাজদের শেষ হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- “আট ঘণ্টা তো দূরের কথা, আট মিনিটও দায়িত্ব পালন করেন না। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান।” বৃহস্পতিবার হাওড়ার নতুন কালেকটারেট ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পৌরনিগমের পাঁচশো কর্মীকে সরাসরি কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাওড়ার মতো শিল্পশহরে দাঁড়িয়ে তাঁর এই হুঁশিয়ারি শুধু পুরকর্মীদের জন্য নয়, গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর কাছেই স্পষ্ট সংকেত।

সূত্রের খবর, হাওড়া পৌরনিগমের কমিশনারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সেখানে মোট ১৭০০ কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০০ জনের নিয়োগ হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। অভিযোগ, তাঁরা কার্যত অফিসে আসেন না। ফলে এক দশকের বেশি সময় ধরে শহরের নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট, নিকাশির বেহাল দশা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা—সব মিলিয়ে হাওড়াবাসীর দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে রেল-রাজ্য সমন্বয়ের পুরনো জটও। তাঁর কথায়, আগের সরকারের আমলে রেলের সঙ্গে হাওড়া পুরনিগমের সম্পর্ক ছিল বৈরিতার। সেই কারণে স্টেশন চত্বরের উন্নয়ন থেকে শুরু করে জল-নিকাশির বহু প্রকল্প আটকে ছিল। এবার সেই ছবি বদলাতে এক ছাতার তলায় আনা হয়েছে সব পক্ষকে।

বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, চার জন বিধায়ক, ডিজিপি, সিপি, এইচএমসি, বালি পুরসভা, কেএমডিএ, এইচআইটি, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার, ডিআরএম-সহ রেলের শীর্ষ কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তাঁর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ‘পরিষ্কার জল, পরিষ্কার জল, পরিষ্কার জল’। এরপরই থাকবে সাফাই, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উদ্যান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়ন।

সমস্ত কাজে গতি আনতে তৈরি হচ্ছে সমন্বয় কমিটি। জেলাশাসক তার নেতৃত্বে থাকবেন। নগরোন্নয়ন সচিব গোটা প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবেন। রেল কী করবে, রাজ্য কী করবে—তার পৃথক তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ দুমুখী। এক, দীর্ঘদিনের বেহাল হাওড়াকে ঢেলে সাজানো। দুই, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা রাজনৈতিক নিয়োগ ও ফাঁকিবাজির সংস্কৃতিতে লাগাম টানা। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন, বদল না হলে কঠোর ব্যবস্থা অনিবার্য। উত্তরবঙ্গ, দুর্গাপুরের পর হাওড়া। জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিচ্ছেন—শাসন নয়, পরিষেবাই তাঁর সরকারের মূল মন্ত্র। আর সেই পরিষেবা দিতে যাঁরা ব্যর্থ, তাঁদের জন্য কোনও রাজনৈতিক রং কাজে আসবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *