কেন এখনও ‘বিরোধী দল’ তকমা পায়নি তৃণমূল? ব্যাখ্যা দিলেন বিধানসভার সচিব
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন এখনও সরকারিভাবে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটালেন বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস। বুধবার একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়ে আইনি ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের পাঠানো চিঠিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব ও অসঙ্গতি থাকার কারণেই বিষয়টি আটকে রয়েছে।
চিঠিতে বিধায়কদের সই নেই, প্রস্তাব পাসের তারিখও উধাও!
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিধানসভার সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে ডেপুটি লিডার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু সচিবের দাবি, এই চিঠিতে দুটি বড় ধরনের আইনি ত্রুটি রয়েছে:
-
তারিখের অভাব: তৃণমূলের বিধায়কদের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি ঠিক কবে পাস করা হয়েছিল, চিঠিতে তার কোনো উল্লেখ নেই।
-
স্বাক্ষরের অভাব: সবচেয়ে বড় বিষয়, ওই চিঠির সঙ্গে দলের বিধায়কদের কোনো স্বাক্ষর বা সই করা প্রস্তাবপত্র যুক্ত ছিল না।
সমরেন্দ্রনাথ বাবু বলেন, “চিঠিটি দেখামাত্রই আমরা বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলাম।” এরপরই স্পিকার (অধ্যক্ষ) পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন এবং স্পষ্ট জানান, যে সমস্ত বিধায়করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করেছেন, তাঁদের স্বাক্ষর সংবলিত মূল প্রস্তাবপত্রটি দ্রুত বিধানসভার সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। তবে বুধবার পর্যন্ত এমন কোনো নথি জমা পড়েনি বলে খবর।
পাল্টা প্রশ্ন শোভনদেবের, জবাব দিলেন সচিব
বিধানসভার সচিবালয়ের এই আপত্তিতে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবির। পাল্টা প্রশ্ন তুলে দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন:“অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা হিসাবে আমিই অধ্যক্ষকে (স্পিকার) হাত ধরে তাঁর চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও এখন কেন আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হচ্ছে?” শোভনদেববাবুর এই প্রশ্নের জবাবে বিধানসভার সচিব অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বলেন, “যে সব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন বা অস্পষ্টতা রয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য বা নথি অধ্যক্ষ চাইতেই পারেন। কারণ বিধানসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ অধিকারী একমাত্র তিনিই।”
জট কাটাতে কালীঘাটে মমতার বৈঠক, যাচ্ছে নতুন চিঠি
এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মঙ্গলবারই কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তৃণমূল সূত্রে খবর, বিধানসভার সচিবালয়ের তোলা আপত্তিগুলি খতিয়ে দেখে সমস্ত নিয়ম মেনে এবার নতুন করে একটি নিখুঁত চিঠি ও বিধায়কদের স্বাক্ষর সংবলিত প্রস্তাবপত্র পাঠানো হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নতুন এই চিঠি বিধানসভায় জমা পড়লেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং তৃণমূলের বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত আইনি জটিলতা কেটে যাবে।
