উলটপুরাণ ফলতায়! ভোট ময়দানে নেই তৃণমূলের এজেন্ট, মুড়ি-ঘুগনি খেয়ে খোশমেজাজে বিজেপি প্রার্থী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ফলতা: গত এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনের চেনা ছবিটা ঠিক এক মাসের মাথায় এসে একেবারে উল্টে গেল ফলতায়। সেবার অভিযোগ উঠেছিল বিরোধীদের এজেন্ট বসতে না দেওয়ার, আর আজ, বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। ২৮৫টি বুথের প্রায় সবকটিতেই বিজেপির এজেন্ট উপস্থিত থাকলেও, অধিকাংশ বুথেই দেখা মিলল না তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টের। শেষমুহূর্তে ভোট ময়দান থেকে ফলতার ‘পুষ্পা’ তথা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর পর, আজ সকাল থেকেই ফলতায় গেরুয়া শিবিরের দাপট ও আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।
খোশমেজাজে বিজেপি প্রার্থী, ভোট উৎসবে সাধারণ মানুষ
পুনর্নির্বাচনের সকালে ফলতা জুড়ে বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে দেখা গেল অত্যন্ত ফুরফুরে ও খোশমেজাজে। জয় যে নিশ্চিত, তা তাঁর চোখে-মুখেই স্পষ্ট। কোনো রকম উত্তেজনার ধার না ধেরে এদিন সকালে এলাকায় ঘুরে ঘুরে ঘুগনি-মুড়ি খেতে দেখা যায় তাঁকে।
অন্যদিকে, বিগত নির্বাচনের অশান্তি বা আতঙ্কের পরিবেশ কাটিয়ে এদিন সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন ফলতার সাধারণ মানুষ। ভোটারদের চোখে-মুখে কোনো শঙ্কা বা ভয়ের ছাপ নেই। নির্বিঘ্নেই লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন তাঁরা।
“পুলিশ ছাড়া লড়ার ক্ষমতা লাগে”, জাহাঙ্গিরকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান দিন দুয়েক আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। ভোটের সকালে তৃণমূলের এই ব্যাকফুট হওয়া এবং জাহাঙ্গিরের ‘গা ঢাকা’ দেওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
বিগত নির্বাচনের সময় জাহাঙ্গির খানকে বাগে আনতে ময়দানে নেমেছিলেন আইপিএস অফিসার ‘সিংঘম’ অজয়পাল শর্মা। তখন জাহাঙ্গির খানও নিজেকে ‘পুষ্পা’ দাবি করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতেই ছবিটা বদলে গেছে। এপ্রিলে ভোটের পর রাজ্যের শাসনভার এখন বিজেপির হাতে। আর এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই আর দেখা মেলেনি জাহাঙ্গিরের।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন:“অনেক শুনেছিলাম, ধুরন্ধর নাকি! সে কোথায় গেল? পুলিশ ছাড়া লড়তে ক্ষমতা লাগে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু করতে পারে। কিন্তু পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া আমরা লড়েছি, জিতে এসেছি। এটা সকলের কাজ নয়।”
এক নজরে ফলতা বিধানসভার ভোটার সমীকরণ
আজকের এই হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনে ফলতার মোট ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন ভোটার তাঁদের রায়দান করছেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এখানকার ভোটার সংখ্যা:
| ভোটার বিভাগ | সংখ্যা |
| মোট ভোটার | ২,৩৬,৪৪৪ জন |
| পুরুষ ভোটার | ১,২১,৩০০ জন |
| মহিলা ভোটার | ১,১৫,১৩৫ জন |
| তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার | ৯ জন |
শাসকদলের কার্যত ওয়াকওভার এবং বিরোধীদের বুথ স্তরে অনুপস্থিতি— সব মিলিয়ে ফলতার পুনর্নির্বাচন এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র কি না, সেই প্রশ্নই তুলছে রাজনৈতিক মহল। তবে বুথের বাইরে ফলতার শান্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ জানান দিচ্ছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর ভোটদানের চেনা সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে।
