Satdru-Arup : অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করার পথে শতদ্রু দত্ত !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত এবার তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করতে চলেছেন। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার জেরে জেল খাটতে হয়েছিল কোন্নগরের এই ব্যবসায়ীকে।
স্পোর্টস ইভেন্ট আয়োজক শতদ্রুর মন্তব্য, গোটা ঘটনায় তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে এবং পরিবারকে ক্ষতির হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। একটি সংবাদমাধ্যমকে শতদ্রু দত্ত জানান, “আগে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে চুপ ছিলাম না। সে সময় মুখ খুললে আমার পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে শতদ্রু মন্তব্য, অতীতেও তিনি সজল ঘোষের সঙ্গে তৃণমূল আমলে বিভিন্ন ইভেন্টে কাজ করেছেন, তখন কেউ অবস্থান বদলের অভিযোগ তোলেনি।
শতদ্রু দত্তের দাবি, নির্দিষ্ট সীমার বেশি ‘ইনসাইড ফেন্সিং’ ও ‘ক্লোজ প্রক্সিমিটি’ কার্ড ইস্যু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েও অরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে কার্ডের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ই-মেল করেছিলেন, কিন্তু কোনও জবাব পাননি।
শতদ্রুর মন্তব্য, “আমাকে বলির পাঁঠা করা হয়েছিল। মেসিকাণ্ডের জেরে আমি বিন্দুমাত্র কলুষিত হইনি, বরং গোটা ভারত জানে আমার সঙ্গে কী জঘন্য কাজ করা হয়েছিল।” জেল থেকে মুক্তির পর বিজেপি-শাসিত দুটি রাজ্যে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে বলেও জানান শতদ্রু দত্ত।
মামলার প্রসঙ্গে শতদ্রু মন্তব্য, “১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় যদি আমি জিতি, ওই টাকাটা যারা লিওনেল মেসির জন্য টিকিট কেটে সেদিন কাঁদতে বাড়ি গিয়েছেন, তাদের দিয়ে দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি অরূপ বিশ্বাস ও তৎকালীন পুলিশ কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
শতদ্রু দত্ত আরও জানান, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি মেসির বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। ভবিষ্যতে লিওনেল মেসিকে আবার কলকাতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শতদ্রুর মন্তব্য, “মেসিকে আবার আমি কলকাতায় নিয়ে আসবই আসব।” আগামী ডিসেম্বর মাসে চারটি রাজ্যে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মেসিকে ঘিরে যুবভারতীর বিশৃঙ্খলায় ৩৮ দিন জেল খাটতে হয়েছিল শতদ্রু দত্তকে। ভক্তদের লিওনেল মেসি দর্শনের স্বপ্নও ভেঙেছিল সেদিন। এবার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামছেন শতদ্রু।
