আজকের দিনেবাংলার আয়না

পালাবদলের পর প্রথম ফলতায় শুভেন্দু অধিকারী, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-
রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সর্বপ্রথম আসছেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। জাহাঙ্গীর খান এবং তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ নিয়েই সভামুখী হচ্ছেন এলাকার মানুষ। আর কয়েক ঘণ্টা পর ফলতার ৮৩ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে পুনঃনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডার সমর্থনে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সেখান থেকেই ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক। পালাবদলের পর ফলতা এলাকায় সনাতনী হিন্দুদের কাছে এ যেন স্বাধীনতার নতুন স্বাদ।

গত ২৯শে এপ্রিল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর ইভিএম-এ বিজেপির প্রার্থী প্রতীকে সেলোটেপ মেরে দিয়েছিলেন। কে বিজেপিতে ভোট দেয় তা পরীক্ষা করতে তৃণমূলের প্রতীকে আতর সুগন্ধি সেন্ট দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। যে ঘরে ইভিএম ছিল, সেই ঘরে বাল্বের হোল্ডারের মধ্যে বসানো ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে নজর রাখা যায় কে কোথায় ভোট দিচ্ছে। অভিযোগ, বিজেপিতে ভোট দিলেই নেমে আসত জাহাঙ্গীর বাহিনীর নির্মম অত্যাচার। ভোটের আগের দিন বাইক বাহিনীর তাণ্ডব ও মহিলাদের হুমকিতে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। দেবাংশু পান্ডার অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন একুশে মে পুনরায় নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে।

স্থানীয়দের দাবি, জাহাঙ্গীরের ভয়ে এতদিন অনেকে ঘর থেকে বের হতেন না, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন না। বিনা কারণে মাদক পাচার বা আর্মস কেস দিয়ে জেল খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। ফলতায় অবাধ বাণিজ্য কেন্দ্রে হুমকি দিয়ে মালিকদের দিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাজ থেকে বের করে দেওয়া হত। একে একে ঘরছাড়া হয়েছিলেন বহু বিজেপি কর্মী। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনের আশ্বাসে এবার মুখ্যমন্ত্রীর জনসভামুখী মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু সনাতনী মহিলারা আগের অত্যাচারের কথা মনে করে অনেকেই কেঁদে ফেলছেন। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মানুষ জটলা বেঁধেছেন। মহিলারা শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করার অপেক্ষায়। এলাকায় কার্যত উৎসবের মেজাজ।

২৯শে এপ্রিলের ভোটে সন্ত্রাস ও কারচুপির অভিযোগের পর পুনর্নির্বাচন হচ্ছে ফলতায়। সেই নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম সফর ঘিরে ফলতায় নতুন আশার আলো। জাহাঙ্গীর খানের আমলের আতঙ্ক কাটিয়ে ‘স্বাধীনতার স্বাদ’ পাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয় সনাতনীদের। ২১শে মে’র ভোটে সেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *