আজকের দিনেযেদিকে দু-চোখ যায়

খুলছে পঞ্চকেদারের দরজা, এক সফরে ঘুরে আসুন পাণ্ডবদের তৈরি ৫ শিব মন্দির

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক: হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, পাণ্ডবদের হাত ধরে তৈরি উত্তরাখণ্ডের ‘পঞ্চকেদার’ (কেদারনাথ, মদমহেশ্বর, তুঙ্গনাথ, রুদ্রনাথ ও কল্পেশ্বর) সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ট্র্যাকারদের কাছে এক পরম পবিত্র এবং রোমাঞ্চকর তীর্থক্ষেত্র। গ্রীষ্মের শুরুতেই খুলে গিয়েছে এই মন্দিরগুলির দরজা। আপনিও যদি ১২ দিনের মধ্যে এই পাঁচটি ধাম ট্রেক করার পরিকল্পনা করেন, তবে রইল দিনভিত্তিক সহজ রুট ম্যাপ:

 ১২ দিনের সম্পূর্ণ ভ্রমণ ছক

  • প্রথম দিন  (ঋষিকেশ আগমন): হাওড়া থেকে ট্রেনে ঋষিকেশ পৌঁছে প্রথম রাতটি সেখানেই কাটান।

  • দ্বিতীয় দিন  (ঋষিকেশ থেকে গুপ্তকাশী): ভোরে গাড়িতে দেবপ্রয়াগ ও রুদ্রপ্রয়াগ হয়ে গুপ্তকাশী পৌঁছানো এবং সেখানে রাত্রিবাস।

  • তৃতীয় দিন  (প্রথম কেদার – কেদারনাথ): সকালে গৌরীকুণ্ড হয়ে ১৬ কিমি ট্রেক করে পৌঁছান ৩,৫৮৩ মিটার উঁচুতে অবস্থিত কেদারনাথে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় সেখানেই কাটবে রাত।

  • চতুর্থ দিন  (কেদারনাথ থেকে উখিমঠ/রাঁশি): সকালে আরতি দেখে নেমে আসুন গুপ্তকাশী বা উখিমঠে। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে পৌঁছান রাঁশি বা বানতোলি গ্রামে।

  • পঞ্চম দিন  (দ্বিতীয় কেদার – মদমহেশ্বর): বানতোলি থেকে হেঁটে ৩,৪৯৭ মিটার উচ্চতার মদমহেশ্বরে পৌঁছানো এবং সেখানে রাত্রিবাস।

  • ষষ্ঠ দিন  (মদমহেশ্বর থেকে চোপতা): ভোরে ‘বুড়ো মদমহেশ্বর’ ঘুরে রাঁশি গ্রাম হয়ে গাড়িতে সোজা চলে আসুন পাহাড়ি স্বর্গ চোপতায়।

  • সপ্তম দিন  (তৃতীয় কেদার – তুঙ্গনাথ ও চন্দ্রশিলা): চোপতা থেকে মাত্র ৩.৫ কিমি হেঁটে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিব মন্দির তুঙ্গনাথে (৩,৬৮০ মিটার) পৌঁছানো। সেখান থেকে আরও ১.৫ কিমি উঁচুতে চন্দ্রশিলা চূড়া থেকে হিমালয়ের রূপ দেখে রাতে চোপতার বুগিয়ালে (তৃণভূমি) তাঁবুতে থাকা।

  • অষ্টম দিন  (বিশ্রাম ও সগর গ্রাম): একটানা ট্রেকিংয়ের পর এদিন শরীরকে বিশ্রাম দিন। চোপতা থেকে নেমে আসুন মণ্ডলে বা সগর গ্রামে, যেখান থেকে রুদ্রনাথের ট্রেক শুরু হয়।

  • নবম দিন  (চতুর্থ কেদার – রুদ্রনাথ): সগর গ্রাম থেকে ২০ কিমি দীর্ঘ এবং পঞ্চকেদারের সবচেয়ে কঠিন রুটটি পার করে পৌঁছান রুদ্রনাথে (৩,৬০০ মিটার)। রাত কাটবে ওখানেই।

  • দশম দিন  (রুদ্রনাথ থেকে হেলাং): রুদ্রনাথ থেকে সগর গ্রামে নেমে এসে গাড়ি ধরে চলে যান হেলাং-এ।

  • একাদশ দিন  (পঞ্চম কেদার – কল্পেশ্বর): হেলাং থেকে গাড়িতে উরগম গ্রাম, সেখান থেকে মাত্র ২ কিমি হেঁটেই পৌঁছে যাবেন কল্পেশ্বরে। এই একটি কেদারই সারাবছর খোলা থাকে। দর্শন শেষে রাতে পিপলকোটি বা জোশিমঠে থাকা।

  • দ্বাদশ দিন (ফিরতি যাত্রা): জোশিমঠ থেকে ঋষিকেশ বা হরিদ্বার ফিরে এসে ট্রেনের পথ ধরা (হাতে সময় থাকলে এদিন বদ্রীনাথ ও মানা গ্রামও ঘুরে নিতে পারেন)।

 জরুরি টিপস: পঞ্চকেদার ট্রেকে শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। রুদ্রনাথের পথটি সবচেয়ে দুর্গম হওয়ায় পর্যাপ্ত জল, শুকনো খাবার এবং ফার্স্ট এইড বক্স সাথে রাখতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *