আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

Chunchura : চুঁচুড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা, পাথর ছুঁড়ে ভাঙা হল জানালা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি :- হুগলির চুঁচুড়া তালডাঙায় তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমিত্র মালাকারের বাড়িতে মধ্যরাতে হামলার অভিযোগ উঠল। বোমা ফাটার মতো শব্দে জানালার কাঁচ ভাঙার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, টোটোয় চেপে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী পাথর ছুঁড়ে পালায়। ভোটের ফলের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ঘটনার পর আজ সকালে তৃণমূল নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে যান। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়কও।

জানা গেছে, চুঁচুড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমিত্র মালাকার তালডাঙায় নিজের বাড়িতে স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। গতকাল মধ্যরাতে হঠাৎ বোমা পড়ার মতো প্রচণ্ড শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। শব্দ পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন সৌমিত্র। তাঁর চিৎকারে পাড়ার লোকজনও আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। অভিযোগ, একটি টোটোতে চেপে কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে সৌমিত্র মালাকারের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে। এতে বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোটের ফল প্রকাশের পর সৌমিত্র মালাকারের ওয়ার্ড অফিস তথা পার্টি অফিস দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। সেখানে বিজেপির পতাকাও লাগানো হয়। পরে চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ নিজে গিয়ে সেই পার্টি অফিস তৃণমূলকে ফিরিয়ে দেন। তারপরেও এই হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে সৌমিত্রর বাড়িতে যান চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার, চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অসিত মজুমদার বলেন, “বিজেপি রাজ্য সভাপতি যখন বলছেন এসব করা যাবে না, এবং নিচু তলার বিজেপি কর্মীরা সে কথা শুনছে না, তার মানে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। আমি পুলিশ প্রশাসনকেও বলবো রাজধর্ম পালন করুন।”
আতঙ্কিত সৌমিত্র মালাকার জানান, “প্রচন্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ছোট মেয়ে নিয়ে শুয়ে ছিলাম সেসময়। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দ পেয়ে বেরিয়ে আসি। বড় কিছু হতে পারতো। চাইবো এসব যাতে আর না হয়।”
অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে চুঁচুড়া বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, “তৃণমূলকে মানুষ বর্জন করেছে। ওই অঞ্চলে আমাদের যারা কর্মী আছে তারা এই কাজ করবে না। চার তারিখ বারোটার পর অনেক তৃণমূল বিজেপি হয়েছে। আবার কেউ কেউ প্রচারে আসার জন্য নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে ঢিল মারছে। তৃণমূলের অন্য নেতারা তো বাইরে ঘুরছে, কিছুই হচ্ছে না। আর যত কাণ্ড ঘটছে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই নেতাকে নিয়ে। নিশ্চই এর পেছনে অন্য কিছু আছে, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”

ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্য জুড়ে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হলেও চুঁচুড়ার এই ঘটনা ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে, অন্যদিকে বিজেপি বিধায়কের পাল্টা দাবি, এটি তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বা প্রচারের কৌশল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে বারবার ২২ নম্বর ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে অশান্তি তৈরি হওয়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *