সিঙ্গুরে এবার মমতা , ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন সহ একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুরে জনসভার দশ দিন পর সিঙ্গুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৮ ই জানুয়ারি সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এর পাশাপাশি তিনি একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি। তার ঠিক ১০ দিন পর আজ ২৮ শে জানুয়ারি সিঙ্গুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী সভা করেছিলেন টাটা কারখানার জমিতে। সেখান থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ইন্দ্রখালি এলাকায় বুধবার সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বুধবার সরকারি মঞ্চে বেশ কিছু শিলন্যাস কর্মসূচির পর রাজনৈতিক সভা করবেন তিনি। এছাড়া বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এর উদ্বোধন করবেন তিনি । তৃনমূল বলছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঘাটালের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বারবার এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণে তা বারবার আটকে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘাটালবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য কেন্দ্রের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকারই করে দেবে। এজন্য রাজ্য বাজেটে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এরপরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে যায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ। অবশেষে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগেই ঐতিহাসিক সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ওই প্রকল্পের বাস্তবায়নে উপকৃত হবেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৭টি ব্লক, যেমন ঘাটাল, দাসপুর-১ ও ২, চন্দ্রকোনা-১ ও ২, কেশপুর এবং ডেবরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক— পাঁশকুড়া-১, কোলাঘাট, ময়না এবং তমলুকের মানুষ। তা ছাড়াও ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ১০ লক্ষ মানুষকে জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।
এছাড়া সিঙ্গুরে ১৮ ই জানুয়ারি সিঙ্গুরে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বক্তব্যগুলো রেখেছিলেন সেই বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে । আজ সিঙ্গুরের রাজনৈতিক সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধারণা রাজনৈতিক মহলের।সিঙ্গুরের সভায় ২ লক্ষ মানুষের জনসমাগমের টার্গেট রয়েছে তৃণমূলের । মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন ” প্রধানমন্ত্রীর সভায় ৪০ হাজার লোক হয়েছে , আমরা আজকের এই সভায় ২ লক্ষ লোক করে আমরা দেখিয়ে দেব ” ।
মমতার সভাকে ঘিরে কটাক্ষ করতে দেখা যায় বিজেপি নেতা নেত্রীদের । বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে যা করার করে দিয়েছেন। ‘মুখ্যমন্ত্রী ওখানে সর্ষের বীজ ছড়িয়ে এসেছিলেন। মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখেছেন। কিন্তু সর্ষে গাছ দেখতে পাননি। প্রধানমন্ত্রী ওখানে সভা করেছেন এবং সিঙ্গুরকে
বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই একটা নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া যে ভারী শিল্প ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সামনে কোনও পথ খোলা নেই।রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘ ওঁর আঁতে ঘা লাগছে সেই জন্যই যাচ্ছে। মিথ্যে কথার ঝুড়ি নিয়ে মিথ্যা বলতে’ ।
