প্রজাতন্ত্র দিবসে রেড রোডে শৌর্য ও সংস্কৃতির মিলন, নজর কাড়ল ভৈরব বাহিনী ও রোবোটিক মিউল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে কলকাতার রেড রোডে চোখধাঁধানো কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি ও রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র তুলে ধরা হল। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের পাশাপাশি নিরন্তর সতর্কতা ও নিরাপত্তার বার্তা ছিল এই শৌর্য প্রদর্শনের মূল আকর্ষণ।
এই কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক ইউনিট এবং রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষিত বাহিনী। পাহাড় থেকে সাগর—পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তের সংস্কৃতির মিলনও ফুটে ওঠে এই অনুষ্ঠানে। কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবারের কুচকাওয়াজের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অসম রাইফেলসের ‘রাইনো রেইডার্স’ বাহিনী, যাদের ভৈরব বাহিনী নামেও পরিচিত। উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের জন্য সিলংয়ে গঠিত এই বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মূলত স্থানীয় ভূমিপুত্রদের নিয়ে তৈরি। প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথমবার রেড রোডে তাঁদের শৌর্য প্রদর্শন নজর কাড়ে।
এর পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় ভারতীয় সেনার অত্যাধুনিক রোবোটিক মিউল। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই রোবোট সেনাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্যারাডে অংশ নেয়। আগে দিল্লির রাজপথে এই রোবোটিক বাহিনী দেখা গেলেও, কলকাতায় এটি ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
প্রথমবার রেড রোডে প্রদর্শিত হয় ‘পঞ্চনাগ বাহিনী’। এই বিশেষ যানে একসঙ্গে একাধিক সমরাস্ত্র বহনের পাশাপাশি ড্রোন পরিচালনার সুবিধাও রয়েছে। এছাড়াও প্রদর্শিত হয় ইন্দ্রজিৎ, রঞ্জিৎ ও ঐরাবত—প্রতিকূল পরিবেশেও চলাচলে সক্ষম ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিক যান।
কুচকাওয়াজে আলাদা মাত্রা যোগ করে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল, মিত্র ইনস্টিটিউশন, লোরেটো হাউস, উচ্চ বালিকা বিদ্যামন্দির (বড়িশা) এবং পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের পড়ুয়ারা মার্চপাস্ট ও ব্যান্ড পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও ছিল কড়া ব্যবস্থা। রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকা ১৭টি জোন ও ১২৫টি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে ছিলেন উপ-নগরপাল এবং সেক্টর পর্যায়ে সহকারী কমিশনার ও ইনস্পেক্টর স্তরের আধিকারিকরা। গোটা শহরে মোতায়েন করা হয় প্রায় দু’হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী।
কুচকাওয়াজ চলাকালীন নিরাপত্তার কারণে যান চলাচলেও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রেড রোড, ধর্মতলা, ময়দান-সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
