“দেশে ফিরুন, নইলে শুনানি নয়”, মাল্যাকে কড়া বার্তা বোম্বে হাইকোর্টের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিজয় মাল্যার ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার’ বা পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীর তকমা বাতিলের আবেদন নিয়ে কড়া অবস্থান নিল বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাল্যা যদি ভারতে ফিরে এসে আদালতের সামনে আত্মসমর্পণ না করেন, তবে তাঁর আবেদন শুনানি করা হবে না। বিচারপতিদের বক্তব্য, যিনি নিজে দেশের বিচারব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করছেন এবং আদালতের অধীনস্থ হতে রাজি নন, তাঁর আবেদন শোনা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রথমেই মাল্যাকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মাল্যাকে একটি শপথনামা বা হলফনামা জমা দিতে হবে, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানাবেন তিনি ভারতে ফিরতে ইচ্ছুক কিনা। যদি ফিরতে চান, তবে কবে ফিরবেন, তাও জানাতে হবে। আদালত এও জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র বিদেশে বসে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করে গেলে চলবে না; দেশের আইনের মুখোমুখি না হয়ে কোনও আইনি সুবিধা চাওয়া যায় না। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, কেউ যদি বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকেন, তাহলে তিনি আদালতের সহানুভূতি বা রিলিফ পাওয়ার দাবি করতে পারেন না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিংফিশার এয়ারলাইন্স সংক্রান্ত বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ২০১৬ সালে ভারত ছাড়েন বিজয় মাল্যা। এরপর ২০১৯ সালে মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত তাঁকে ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার’ ঘোষণা করে। এই তকমার ফলে তাঁর ভারতে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথ সুগম হয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়াও বহুদিন ধরেই চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটেই মাল্যা বোম্বে হাইকোর্টে তাঁর পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীর মর্যাদা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানান। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তিনি যদি সত্যিই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান এবং আইনি লড়াই লড়তে চান, তাহলে তাঁকে দেশে ফিরেই তা করতে হবে। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও নির্ধারণ করেছে এবং তার আগে মাল্যার কাছ থেকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বার্তাটি স্পষ্ট ভারতের বিচারব্যবস্থার বাইরে থেকে আইনি সুবিধা চাওয়া যাবে না। দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হয়েই নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বোম্বে হাইকোর্টের এই অবস্থান বিজয় মাল্যার আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
