অনুমতি ছাড়াই SIR-এ যুক্ত আধিকারিকদের বদলি কেন! রাজ্যকে কড়া চিঠি কমিশনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- রাজ্যে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠভাবে সুসম্পন্ন হয় তার জন্য জোরকদমে চলছে SIR প্রক্রিয়ার কাজ। এমতাবস্থায় SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার নিল।কমিশনের অভিযোগ তাদের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নাকি SIR-এর সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করেছে নবান্ন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কাজ। এই পর্যায়ে কোনওরকম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব এড়াতে আগেই রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে SIR চলাকালীন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না। কিন্তু এবার রাজ্য সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করল। তাই বদলির প্রতিবাদে রাজ্যকে কড়া চিঠি দিল কমিশন।
বিগত ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১২ জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার ও ৫ জন ডিভিশনাল কমিশনার নিয়োগ করে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই কাজ করছিলেন। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আলাদা আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে কমিশনের অনুমতি ছাড়াই। এই বদলি যুক্তিসঙ্গত নয় বলে জানিয়েছে কমিশন ।
যে তিন জন গুরুত্বপূর্ণ অবজার্ভারকে অন্যত্র বদলি করেছিল সেই তিনজন হলেন অশ্বিনী কুমার যাদব (উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর), রণধীর কুমার (উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর) এবং স্মিতা পাণ্ডে (পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম)। তাই এবার এদের বদলি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হল, যে তিনজন আধিকারিককে বদলি করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, সেই বিজ্ঞপ্তি আজ ২৮ শে জানুয়ারি বুধবার দুপুর ৩টের মধ্যে বাতিল করতে হবে। শুধু বাতিল করে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না সেটা রিপোর্ট আকারে কমিশনকে জানাতেও হবে।এবার এটাই দেখার বিষয় কমিশনের নির্দেশ রাজ্য আজ কার্যকর করে কি না ? সেদিকেই চোখ রয়েছে সকলের ।
