আজকের দিনেবাংলার আয়নাযেদিকে দু-চোখ যায়

Toy Train : ১৪৪ বছরে স্বাবলম্বী টয় ট্রেন, আয়ের নজির !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- স্বাবলম্বী হয়েছিল আগেই। এ বার ১৪৪তম বছরে পা দিয়ে আয়ের দিক থেকেও সর্বকালীন নজির গড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। ২০২৫ সালে জন্মলগ্নের পর থেকে সর্বাধিক আয় করেছে ঐতিহ্যবাহী ‘খেলনা ট্রেন’। এই সাফল্যে খুশি রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পাহাড়ের পর্যটনমহল, হোটেল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে ডিএইচআরের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৪.৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আয় হয়েছিল ২১.২ কোটি টাকা। পর্যটকের সংখ্যাতেও বড়সড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার পর্যটক টয় ট্রেনে চড়েছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার।

এক সময় এই খেলনা ট্রেন চালাতে ভর্তুকি দিতে হত রেল কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে কোভিড অতিমারির আগে পর্যন্ত পরিষেবা বজায় রাখতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন পড়ত। তবে ২০২০ সালের পর সেই ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। ভর্তুকির প্রয়োজন তো পড়েইনি, উল্টে ধারাবাহিক ভাবে আয় বাড়তে শুরু করেছে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক পরিকল্পিত উদ্যোগ। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে চালু হয়েছে নতুন পরিষেবা। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা প্রাচীন স্টিম ইঞ্জিন ও ঐতিহাসিক কামরাগুলিকে আবার রেললাইনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ঢেলে সাজানো হয়েছে ব্রিটিশ আমলের জাদুঘরও। পাশাপাশি টয় ট্রেনের ইতিহাস ঘিরে নানা অজানা তথ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলতে এ বার অভিনব পরিকল্পনাও করছে ডিএইচআর। বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য টয় ট্রেন ভাড়া দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে এবং পাহাড়ের অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ডিএইচআরের আয় হয়েছে। এই সাফল্য আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের।”

হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যালের কথায়, “করোনার পর টয় ট্রেনকে নতুন করে প্রচারের আলোয় আনতে রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। তার ফলেই আজ এই সাফল্য। তবে পরিষেবাকে আরও স্বাভাবিক ও টেকসই করতে পাহাড়ের মানুষের সহযোগিতার পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।”

এ দিকে ১৪৪ বছরে পা দেওয়া উপলক্ষে প্রথম বার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের তরফে টয় ট্রেনের জন্মদিন উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, টয় ট্রেনের যাত্রাপথের একটি বড় অংশ মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সামনে রেখে সম্প্রতি চালু হয়েছে নতুন পরিষেবা—শিলিগুড়ি থেকে গয়াবাড়ি পর্যন্ত সপ্তাহে দু’দিন ছুটবে পাহাড়ি খেলনা ট্রেন।

ঐতিহাসিক ভাবে উল্লেখযোগ্য এই রেলপথের সূচনা হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। ১৮৭০ সালে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথম টয় ট্রেন চালানো হয়। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙকে রেলপথে যুক্ত করার উদ্যোগ বাণিজ্যিক রূপ পায় ১৮৭৯ সালে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই প্রথম বার শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের উদ্দেশে গড়িয়েছিল টয় ট্রেনের চাকা।

দেড় শতাব্দীর কাছাকাছি সময় পেরিয়ে আজও সেই ঐতিহ্যবাহী খেলনা ট্রেন পাহাড়ের পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র এবং ২০২৫ সালে এসে তা প্রমাণ করল, ইতিহাস আর আধুনিক পরিকল্পনা একসঙ্গে চললে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *