আজকের দিনেবাংলার আয়না

এবার রাজনীতির ময়দানে মুখোমুখি কাকা-ভাইপো

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কাটোয়া: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া কেন্দ্র সাক্ষী হতে চলেছে এক অনন্য লড়াইয়ের। সম্পর্কের সমীকরণ ছাপিয়ে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াইয়ে এখানে সম্মুখ সমরে নামছেন কাকা ও ভাইপো। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তাঁরই মেজোদাদার ছেলে রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় কংগ্রেসের টিকিটে কাকার বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন।

কাটোয়া শহরের বারায়ারিতলার চট্টোপাধ্যায় পরিবারের মেজো ছেলে অনন্ত চট্টোপাধ্যায়ের বড় ছেলে রণজিৎ। একই পৈতৃক বাড়িতে আলাদা সংসারে থাকলেও কাকা-ভাইপোর রাজনৈতিক পথ এখন সম্পূর্ণ আলাদা। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘকাল কংগ্রেসে থাকার পর ২০১৫ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। কাটোয়া থেকে টানা ছয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া রবীন্দ্রনাথবাবু এবারও জোড়াফুল শিবিরের প্রধান বাজি। অন্যদিকে, কাকার হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। তবে কাকা দলবদল করলেও রণজিৎ কংগ্রেসেই থেকে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং পুরসভার কাউন্সিলর। এই লড়াইকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উর্ধ্বে রেখে নিছক ‘রাজনৈতিক সংগ্রাম’ হিসেবেই দেখছেন দুই পক্ষই।

রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য: “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই। এর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কোনো যোগ নেই। আমি তৃণমূলের প্রার্থী এবং দলকে জেতানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামছি।”

রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য: “কাকাকে ওঁর দল প্রার্থী করেছে, আমাকে আমার দল। কাকা নিজের অবস্থানে লড়বেন, আমি আমার। শহরজুড়ে পুরসভার উন্নয়নের নামে যে তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠছে, মানুষ তার বিরুদ্ধেই আমাদের ভোট দেবেন।”

২০২২ সালের পুরভোটে কাটোয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন রণজিৎ। যদিও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে কংগ্রেসের অন্য কাউন্সিলররা শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠ, তবে রণজিৎবাবু সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাকার বিরুদ্ধে ভাইপোর এই লড়াই কাটোয়ার জনমানসে এক বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *